


শরীয়তপুরে ডিজেল সংগ্রহ করতে শ্যালো মেশিন কাঁধে ও মাথায় নিয়ে ফিলিং স্টেশনে যাওয়ার এক ব্যতিক্রমী ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কৃষকেরা সেচ মেশিন খুলে সরাসরি পাম্পে নিয়ে গিয়ে তেল নেওয়ার চেষ্টা করছেন—যা নিয়ে কৌতূহল ও নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ডগ্রি বাজার এলাকায় অবস্থিত একটি ফিলিং স্টেশনে। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে কয়েকজন কৃষক তাদের ব্যবহৃত সেচ পাম্পের শ্যালো মেশিন খুলে কাঁধে ও মাথায় বহন করে পাম্পে নিয়ে যান। পরবর্তীতে সেখানে মেশিনে সরাসরি ডিজেল ভরার প্রস্তুতি নিতে দেখা যায় তাদের।
বুধবার (২২ এপ্রিল) এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওতে দেখা দৃশ্য অনেকের কাছেই অস্বাভাবিক মনে হলেও, এর পেছনে রয়েছে কৃষকদের বাস্তবতা ও কিছু ভুল ধারণা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কৃষকদের মধ্যে ধারণা ছিল—খোলা বোতল বা ড্রামে জ্বালানি তেল দেওয়া না হলেও, যদি মেশিনসহ পাম্পে যাওয়া যায় তাহলে সহজেই তেল পাওয়া যাবে। এই বিশ্বাস থেকেই তারা এমন উদ্যোগ নেন।
এ বিষয়ে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অনুমোদন ছাড়া খোলা পাত্রে জ্বালানি বিক্রি করা যায় না। তবে কৃষিকাজ বা জরুরি প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি থাকলে নির্ধারিত নিয়ম মেনে তেল সরবরাহ করা হয়।
ফিলিং স্টেশনটির ব্যবস্থাপক আব্দুল জব্বার বলেন, কৃষকেরা সেদিন শ্যালো মেশিন নিয়ে এসে তেল নিয়েছেন। অনেকেই এখনও আগের নিয়ম নিয়ে বিভ্রান্তিতে রয়েছেন। একসময় বোতলে তেল বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল, তবে পরে কৃষকদের সুবিধার কথা বিবেচনায় সীমিত আকারে তা আবার চালু করা হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, সচেতনতার অভাব ও সঠিক তথ্যের ঘাটতির কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে। কৃষিসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি জ্বালানি সংগ্রহের নিয়মগুলো আরও পরিষ্কারভাবে জানায়, তাহলে এ ধরনের বিভ্রান্তি কমে আসবে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুধু কৌতূহলই নয়, বরং গ্রামীণ এলাকায় জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা, নিয়মকানুন এবং কৃষকদের বাস্তব সমস্যাগুলোও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অনেকেই মনে করছেন, কৃষকদের সুবিধা বিবেচনায় জ্বালানি বিতরণ ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও কার্যকর করা জরুরি।