Date: May 03, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / সারাদেশ / ময়মনসিংহ / ছাত্র আন্দোলনে ‘নিহত’ দেখানো সেলিম জীবিত, মামলা করেছেন বড় ভাই - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

ছাত্র আন্দোলনে ‘নিহত’ দেখানো সেলিম জীবিত, মামলা করেছেন বড় ভাই

June 01, 2025 12:04:01 PM   উপজেলা প্রতিনিধি
ছাত্র আন্দোলনে ‘নিহত’ দেখানো সেলিম জীবিত, মামলা করেছেন বড় ভাই

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার ব্যবসায়ী মো. সোলাইমান হোসেন সেলিম জীবিত থাকা অবস্থায়ই ‘হত্যাকাণ্ডের শিকার’ হিসেবে দেখিয়ে দায়ের করা হয়েছে হত্যা মামলা। সেই মামলার বাদী স্বয়ং তার বড় ভাই গোলাম মোস্তফা ওরফে মস্তু।

অভিযোগের তালিকায় নাম উঠে এসেছে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলের ৪১ জন নেতা-কর্মীর। ‘অজ্ঞাতনামা’ হিসেবে দেখানো হয়েছে আরও ১৫০-২০০ জনকে। একজন জীবিত মানুষকে ‘মৃত’ হিসেবে দেখিয়ে মামলা নেওয়ায় পুলিশের দায়িত্বহীনতা আরও স্পষ্ট হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, পারিবারিক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল সেলিম ও তার তিন ভাইয়ের মধ্যে। প্রায় ২০ বছর আগে বাবা আব্দুল হাকিমের মৃত্যুর পর থেকে শুরু হয় এই বিরোধ। সেলিমের কোনো সন্তান না থাকায় তার সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করে আসছিল অন্য ভাইয়েরা। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় ভাই মস্তু এলাকাবাসীর কাছে ‘ডাকাত’ হিসেবে পরিচিত।

২০২৪ সালের ৩০ আগস্ট রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা মামলায় বলা হয়, ৩ আগস্ট কাজলা এলাকায় সেলিমকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। অথচ সেই সময় সেলিম জীবিত ছিলেন এবং ময়মনসিংহের ধামর বেলতলি বাজারে নিজের মুদির দোকানে কাজ করছিলেন।

সেলিম বলেন, “আমাকে মামলায় মৃত দেখিয়েছে, সুযোগ পেলে সত্যিই মেরে ফেলত। আমি নিজেই পাঁচবার থানায় গিয়ে বলতে হয়েছে- আমি মরিনি, বেঁচে আছি!”

তার স্ত্রী হাজেরা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, এটি নিছক নাটক নয়, পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা। এর আগেও তিন ভাই মিলে সেলিমের ওপর হামলা চালিয়েছিল। সেবার এলাকাবাসীর সহযোগিতায় প্রাণে বাঁচে।

একজন জীবিত মানুষকে ‘মৃত’ দেখিয়ে হত্যার মামলা নথিভুক্ত করায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। কেন যাচাই না করেই তারা মামলা গ্রহণ করল?

ফুলবাড়িয়া থানার ওসি মোহাম্মদ রুকনুজ্জামান বলেন, “মস্তু একজন স্বীকৃত ডাকাত। তার নামে দুটি হত্যা, একটি চাঁদাবাজি ও একটি মারামারির মামলা রয়েছে। প্রায় ১৫ বছর ধরে সে এলাকা থেকে পলাতক।” তিনি আরও জানান, সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে এবং রাজনৈতিক ফায়দা নিতে মস্তু এই মিথ্যা মামলা করেছেন বলে ধারণা।

ডিবির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আমিনুল ইসলাম জানান, মামলার বাদী মস্তু পলাতক। তার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে, অবস্থানও অজানা। আদালতের নির্দেশে সেলিম ও মস্তুর ডিএনএ পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

তবে মামলার গ্রাউন্ডলেস বিষয়টি নিয়ে তিনিও কিছু জানাতে পারেননি। তিনি বলেন, “আমি এই মামলার তৃতীয় তদন্ত কর্মকর্তা। এখন পর্যন্ত একজন আসামিকে গ্রেফতার করেছি। দ্রুত তদন্ত শেষ করার চেষ্টা চলছে।”

মস্তুর ভাই হেলাল উদ্দিন ও আবুল হোসেন মামলার সাক্ষী হলেও তারা এখন দূরত্ব বজায় রাখছেন। হেলালের মেয়ে ঝুমি আক্তার বলেন, “মামলার কথা শুনেছি, কিন্তু কেন বাবাকে সাক্ষী করা হয়েছে, জানি না। মস্তু কাকা যা করেছে, সেটা তার কাজ।”

স্থানীয় রুহুল আমিন বলেন, “সেলিম নিরীহ মানুষ, দোকান চালিয়ে জীবন চালান। জমির লোভে ভাইয়েরা এই ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু একজন জীবিত মানুষকে 'মৃত' দেখিয়ে মামলা করা -এটা তো চরম ষড়যন্ত্র। যারা করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।”

ময়মনসিংহ সমাজ রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “মামলা নেওয়ার আগে পুলিশের আরও বেশি সতর্ক ও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত ছিল। এমন ঘটনায় মানুষ ন্যায়ের বদলে হয়রানির শিকার হচ্ছে। কেউ যেন ভুয়া মামলায় না ফেঁসে যায়, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।”