Date: April 21, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / লাইফস্টাইল / খেজুর খাওয়ার সঠিক সময় ও স্বাস্থ্য উপকারিতা - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

খেজুর খাওয়ার সঠিক সময় ও স্বাস্থ্য উপকারিতা

December 29, 2025 08:26:20 PM   অনলাইন ডেস্ক
খেজুর খাওয়ার সঠিক সময় ও স্বাস্থ্য উপকারিতা

খেজুর আমাদের অতি পরিচিত একটি ফল। মুসলিম সমাজে রোজা ভাঙা থেকে শুরু করে নানা ধর্মীয় ও সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানে খেজুরের ব্যবহার দীর্ঘদিনের। তবে ধর্মীয় গুরুত্বের বাইরেও খেজুরের রয়েছে অসাধারণ পুষ্টিগুণ। ছোট্ট এই ফলটিতে প্রচুর ফাইবার, প্রাকৃতিক চিনি, ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। নিয়মিত খেজুর খেলে শরীরে শক্তি বাড়ে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও উন্নত হয়।

অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে—খেজুর খাওয়ার সঠিক সময় কোনটি? খালি পেটে খাওয়া ভালো, নাকি ঘুমানোর আগে? আবার কেউ কেউ ভিজিয়ে খাওয়াকে বেশি উপকারী মনে করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, খেজুর খাওয়ার নির্দিষ্ট কোনো বাধ্যতামূলক সময় নেই। তবে কিছু নির্দিষ্ট সময়ে খেলে এর উপকারিতা আরও বেশি পাওয়া যায়।

ব্যায়ামের আগে খেজুর খাওয়া শরীরের জন্য বেশ উপকারী। খেজুরে থাকা প্রাকৃতিক চিনি ধীরে ধীরে শক্তি জোগায়। ব্যায়ামের ৩০ থেকে ৬০ মিনিট আগে ২ থেকে ৪টি খেজুর খেলে শরীর দীর্ঘ সময় সক্রিয় থাকে। যারা নিয়মিত জিম বা ওয়ার্কআউট করেন, তাদের জন্য খেজুর হতে পারে একটি প্রাকৃতিক এনার্জি বুস্টার।

সকালে খালি পেটে খেজুর খেলে শরীর দ্রুত শক্তি পায়। এটি অন্ত্র পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে এবং পরিপাকতন্ত্রকে সক্রিয় করে। পাশাপাশি হৃদ্‌যন্ত্র ও লিভারের স্বাস্থ্যের উন্নতিতেও খেজুর কার্যকর ভূমিকা রাখে। দিনের শুরুটা হালকা ও শক্তিদায়ক করতে ভোরে খালি পেটে খেজুর খাওয়া উপকারী।

রাতের খাবারের পর বা ঘুমানোর আগে খেজুর খাওয়াও ভালো অভ্যাস। খেজুরে থাকা ফাইবার দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে, ফলে রাতে অপ্রয়োজনীয় খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়। ঘুমের আগে কয়েকটি খেজুর স্বাস্থ্যকর স্ন্যাক হিসেবে কাজ করে এবং হজমেও সহায়তা করে।

নিয়মিত খেজুর খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয় এবং হাড় মজবুত থাকে। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, মস্তিষ্ক ও হৃদ্‌যন্ত্র সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। পাশাপাশি অ্যালঝাইমার ও ক্যানসারের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি কমাতেও খেজুর ভূমিকা রাখতে পারে। ত্বক ও চুলের উজ্জ্বলতাও বাড়ায় এই ফল।

ডায়াবেটিস বা প্রিডায়াবেটিস রোগীরাও চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পরিমিত পরিমাণে খেজুর খেতে পারেন। খেজুরে থাকা পলিফেনল অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের প্রদাহ কমাতে এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

তবে কিছু পরিস্থিতিতে খেজুর খাওয়া এড়িয়ে চলাই ভালো। ভারী খাবারের পরপরই খেজুর খেলে হজমে সমস্যা, গ্যাস বা পেট ফাঁপা হতে পারে। ডায়রিয়ার সময় খেজুরে থাকা সোর্ভিটল পাতলা পায়খানা বাড়িয়ে দিতে পারে। এছাড়া অ্যালার্জি বা আইবিএস সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে বলা যায়, খেজুর খাওয়ার নির্দিষ্ট সময় না থাকলেও সকালে খালি পেটে, ব্যায়ামের আগে কিংবা রাতে ঘুমানোর আগে খেলে এর গুণাগুণ সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়। তবে সব খাবারের মতোই খেজুর খাওয়ার ক্ষেত্রেও পরিমিতি বজায় রাখা জরুরি। নিয়মিত কয়েকটি খেজুর শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তি জোগানোর পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায়।