Date: April 25, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / সারাদেশ / খুলনা / কুষ্টিয়ায় তীব্র তাপপ্রবাহ ও পরিবেশ বিপর্যয় রোধে ১০ দফা সুপারিশ - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

কুষ্টিয়ায় তীব্র তাপপ্রবাহ ও পরিবেশ বিপর্যয় রোধে ১০ দফা সুপারিশ

April 25, 2026 07:09:37 PM   অনলাইন ডেস্ক
কুষ্টিয়ায় তীব্র তাপপ্রবাহ ও পরিবেশ বিপর্যয় রোধে ১০ দফা সুপারিশ

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়া অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান তাপপ্রবাহ, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব এবং পরিবেশগত অবক্ষয় মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। শনিবার কুষ্টিয়া শহরের দিসা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে এই দাবি জানানো হয়।

“কুষ্টিয়া অঞ্চলে তাপপ্রবাহ, উষ্ণায়নের প্রভাব মোকাবিলা ও পরিবেশ বিপর্যয় রোধে করণীয়” শীর্ষক এই বৈঠকের আয়োজন করে নারী উন্নয়ন শক্তি (নাস) ও স্বপ্নশীলন সমাজ উন্নয়ন সংস্থা (এসএসইউএস)। এতে সহযোগিতা করে ইয়াং উইমেন ফর ডেভেলপমেন্ট রাইটস অ্যান্ড ক্লাইমেট এবং ফোরাম ফর কালচার অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট।

বৈঠকে বক্তারা বলেন, কুষ্টিয়া অঞ্চলে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষ, নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এর সাথে বৃষ্টিপাতের অনিয়ম, খরা, নদীর পানি কমে যাওয়া এবং শিল্প দূষণ পরিবেশ সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে।

নারী উন্নয়ন শক্তির নির্বাহী পরিচালক ড. আফরোজা পারভীন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নারীদের ওপর বেশি পড়ছে। নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে তারা চরম ঝুঁকির মধ্যে আছে। তাই নারী-সংবেদনশীল জলবায়ু নীতি তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। একই সংস্থার প্রকল্প সমন্বয়কারী মাহমুদুল হক পরিবেশ রক্ষায় একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের ওপর জোর দেন।

গবেষক নাজমুল হুদা বলেন, গড়াই নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনা এবং পরিবেশ রক্ষা করা না গেলে কুষ্টিয়ার টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। নদী দখল ও দূষণ বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। স্বপ্নশীলন সমাজ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক হাফিজ আল আসাদ বলেন, পরিকল্পনার অভাব এবং আইনের দুর্বল প্রয়োগই এই বিপর্যয়ের মূল কারণ।

গোলটেবিল বৈঠক থেকে সরকারের কাছে ১০টি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তুলে ধরা হয়: ১. কুষ্টিয়ায় জরুরি ভিত্তিতে তাপপ্রবাহ মোকাবিলা কর্মপরিকল্পনা চালু করা এবং কাজের সময়সূচি সমন্বয় করা। ২. শহর ও বাসস্ট্যান্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিশুদ্ধ পানি ও ছায়াযুক্ত বিশ্রামাগার তৈরি করা। ৩. গড়াই নদী খনন করা এবং দূষণ বন্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো। ৪. শিল্প কারখানায় বর্জ্য শোধন ব্যবস্থা (ইটিপি) বাধ্যতামূলক করা এবং নিয়মিত মনিটরিং করা। ৫. অবৈধ ইটভাটা ও অতিরিক্ত ধোঁয়া নির্গমনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। ৬. কুষ্টিয়ার শহর ও গ্রামগুলোতে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি জোরদার করা। ৭. পৌর এলাকায় নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ এবং প্লাস্টিক ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ আনা। ৮. কৃষকদের রাসায়নিকের ব্যবহার কমানো ও পানি সাশ্রয়ী কৃষি পদ্ধতিতে উদ্বুদ্ধ করা। ৯. স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশ সচেতনতামূলক শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা। ১০. স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে পরিবেশ সংক্রান্ত আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা।

বৈঠকে ফোরাম ফর কালচার অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক ড. সুলতান মুহাম্মদ রাজ্জাক এবং ইয়াং উইমেন ফর ডেভেলপমেন্ট রাইটস অ্যান্ড ক্লাইমেটের সদস্য মাহফুজা খাতুনসহ আরও অনেকে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন। সবাই মিলে একটি পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ কুষ্টিয়া গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।