Date: May 11, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / কৃষি সংবাদ / ‘কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে’ স্লোগান কাগজে-কলমেই, বাস্তবে মুনাফা মধ্যস্বত্বভোগীদের - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যে...

‘কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে’ স্লোগান কাগজে-কলমেই, বাস্তবে মুনাফা মধ্যস্বত্বভোগীদের

December 18, 2025 05:18:01 PM   অনলাইন ডেস্ক
‘কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে’ স্লোগান কাগজে-কলমেই, বাস্তবে মুনাফা মধ্যস্বত্বভোগীদের

দেশজুড়ে কৃষকরা যখন ঘাম ঝরিয়ে নানান ধরনের সবজি উৎপাদন করছেন, তখন বাজারে সেই সবজির দাম আকাশছোঁয়া। কিন্তু চরম বাস্তবতা হলো, এই চড়া দামের অধিকাংশ লাভ চলে যাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে, আর উৎপাদনের মূল নায়ক কৃষক রয়ে যাচ্ছেন অবহেলিত। লালমনিরহাটের আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন টনকে টন সবজি উৎপাদিত হচ্ছে। ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, টমেটো, মরিচ, মুলা ও শিমসহ বিভিন্ন মৌসুমী সবজি স্থানীয় কৃষকরা পানির দরে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

একদিকে পরিবহন খরচ, অন্যদিকে পর্যাপ্ত বাজার ব্যবস্থাপনার অভাব সব মিলিয়ে কৃষকরা সবজি তুলেই যেন লোকসানে পড়ছেন। একই সবজি মাঠ থেকে কৃষক বিক্রি করছেন ১০ থেকে ১২ টাকায়, অথচ সেই সবজি ভোক্তার কাছে গিয়ে দাঁড়াচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। দামের এই বিশাল ব্যবধান চলে যাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে। কৃষকদের কাছ থেকে পাইকাররা কম দামে সবজি কিনে নেন। এরপর শহরের আড়তে গিয়ে তা বিক্রি হয় দ্বিগুণ বা তিনগুণ দামে। মূলত স্থানীয় দালাল, পরিবহন সিন্ডিকেট, আড়ৎদার ও শহরের খুচরা বিক্রেতারা এই চক্রে জড়িত। ফলে প্রকৃত উৎপাদক কৃষককে তার ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হতে হয়।

কৃষকদের কণ্ঠে এখন শুধুই ক্ষোভের সুর। আদিতমারী উপজেলার কৃষক রহিম উদ্দিন বলেন, সবজি দ্রুত পচনশীল হওয়ায় তারা লোকসান দিয়ে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। অন্যদিকে হাতীবান্ধার কৃষক ফারুক হোসেন বলেন, মাঠপর্যায়ে কার্যকর তদারকি না থাকায় সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। পাইকাররা কম দামে সবজি কিনে নেয়, আর আড়তে বিক্রি করতে গেলে পরিবহন ও শ্রমিক খরচ যোগ হওয়ায় কৃষকের লাভ আরও কমে যায়। সরকার যদি সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে কিনত, তবে তারা কিছুটা হলেও বাঁচতেন। দালালরাই লভ্যাংশের সবটুকু খেয়ে ফেলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

কৃষি অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, সরাসরি কৃষক ও ভোক্তার মধ্যে সংযোগ তৈরি না হলে কৃষি ব্যবস্থাপনা কখনোই টেকসই হবে না। প্রান্তিক কৃষকদের সংগঠন গড়ে তুলে সরাসরি বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও পরিবহনের জন্য আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলা জরুরি। কৃষকের ন্যায্য দামের নিশ্চয়তায় সরকারিভাবে সরাসরি ক্রয় কেন্দ্র চালু করা, ডিজিটাল কৃষিপণ্য বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি অফিসের নজরদারি বাড়ানো এবং কৃষকদের সংগঠিত করে পাইকারি বাজারে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় আলু বাদে প্রায় ৫ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজির আবাদ সম্পন্ন হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে এ আবাদ আরও বাড়বে। নিরাপদ ও বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। তবে সচেতন মহলের দাবি, ‘কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে’ -এই কথা কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবে রূপ দিতে হবে। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ না হলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষকের ভবিষ্যৎ দুটোই বিপন্ন হতে পারে।