


কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। র্যাব জানিয়েছে, ঘটনার পেছনের পুরো চক্র শনাক্তে তদন্ত চলছে এবং বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করা হবে।
নিহত বুলেট বৈরাগী গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা সুশীল বৈরাগীর ছেলে। তিনি ৪১তম বিসিএস (নন-ক্যাডার) ব্যাচে কাস্টমস, এক্সারসাইজ ও ভ্যাট বিভাগে যোগ দেন এবং কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি পরিবার নিয়ে কুমিল্লা নগরের রাজগঞ্জ পানপট্টি এলাকায় বসবাস করতেন।
কাস্টমস কমিশনার আবদুল মান্নানের তথ্য অনুযায়ী, বুলেট বৈরাগী সম্প্রতি চট্টগ্রামে ৪৪তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে অংশ নিতে যান। প্রশিক্ষণ শেষে ২৪ এপ্রিল রাতে তিনি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন এবং পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিলেন।
সর্বশেষ তিনি রাত ১টা ২৫ মিনিটে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানান, তিনি কুমিল্লার টমছমব্রিজ চৌরাস্তা এলাকায় পৌঁছেছেন। এরপর তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
পরদিন শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা কোটবাড়ি এলাকায় আইরিশ হোটেলের পাশে তার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব। গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য ও সম্পৃক্ততা উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।