


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে, যেখানে দেখা যায় বাগেরহাটের খানজাহান (রহ.) মাজারের দিঘিতে একটি কুমির কুকুরকে টেনে নিচ্ছে। অনেকেই দাবি করছেন, কুমিরকে ইচ্ছাকৃতভাবে কুকুর খাওয়ানো হয়েছে। তবে সরেজমিনে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র—ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত এবং দুর্ঘটনাজনিত।
বাগেরহাটের ঐতিহ্যবাহী খানজাহান (রহ.) মাজার এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই দর্শনার্থীদের জন্য একটি জনপ্রিয় স্থান। এখানে থাকা মিঠা পানির কুমিরগুলো পর্যটকদের জন্য আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। ছুটির দিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানুষ এখানে ভিড় করেন কুমির দেখার জন্য।
ভাইরাল ভিডিওটি প্রকাশ পাওয়ার পর অনেক দর্শনার্থী ও নেটিজেন ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মাদারীপুর থেকে আসা কয়েকজন দর্শনার্থী জানান, তারা কুমির দেখতে এলেও এমন একটি ঘটনার কথা শুনে হতাশ হয়েছেন। তাদের মতে, যদি ইচ্ছাকৃতভাবে এমন কিছু করা হয়ে থাকে, তবে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়।
তবে স্থানীয়দের বক্তব্যে উঠে আসে ভিন্ন তথ্য। মাজার এলাকার একটি দোকানের মালিক বিনা আক্তার জানান, সংশ্লিষ্ট কুকুরটি আগে থেকেই আক্রমণাত্মক আচরণ করছিল এবং কয়েকজনকে তাড়া করেছিল। এমনকি একটি শিশুকেও কামড় দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে কোনো একসময় কুকুরটি দিঘির পানিতে পড়ে গেলে সেখানে থাকা কুমিরটি সেটিকে ধরে নিয়ে যায়।
মাজারের নিরাপত্তাকর্মী মো. ফোরকান হাওলাদার ঘটনাটির প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে জানান, তিনি ঘাটে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় হঠাৎ একটি বেওয়ারিশ কুকুর এসে তার পায়ে আঁচড় দেয়। আত্মরক্ষার্থে পা ঝাড়া দিলে কুকুরটি ভারসাম্য হারিয়ে পানিতে পড়ে যায়। তখনই দিঘির কুমিরটি তাকে টেনে নিচে নিয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, প্রায় আধা ঘণ্টা পর কুকুরটির দেহ পানির ওপর ভেসে উঠলে সেটি উদ্ধার করে মাটিচাপা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় আহত হওয়ায় তিনি নিজেও চিকিৎসা নিয়ে টিকা নিয়েছেন।
মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। মাজারের পবিত্রতা ও ভাবমূর্তি রক্ষায় সঠিক তথ্য প্রচারের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
এদিকে পুরো বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে প্রশাসন। বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন জানিয়েছেন, ভাইরাল ভিডিওটি তাদের নজরে এসেছে এবং প্রাথমিকভাবে প্রকৃত ঘটনা ভিন্ন বলে ধারণা পাওয়া গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
প্রশাসনের আশা, তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে এবং বিভ্রান্তি দূর হবে।