


হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনাল চালুর জন্য সরকার ১৬ ডিসেম্বরকে লক্ষ্য তারিখ হিসেবে নির্ধারণ করেছে। নানা ধাপ পেরিয়ে প্রস্তুতি এগিয়ে চললেও, চুক্তি, পরীক্ষামূলক পরিচালনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই টার্মিনাল চালুর পরিকল্পনা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস ফোরাম বাংলাদেশের (এটিজেএফবি) সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক জানান, সরকারের নির্ধারিত সময়সীমা মাথায় রেখে তৃতীয় টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এই টার্মিনাল ধাপে ধাপে চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের ত্রুটি বা ঝুঁকি এড়ানো যায়। টার্মিনাল পরিচালনার জন্য জাপানের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত করার বিষয়টি এখনো আলোচনায় রয়েছে। এ পর্যন্ত নয় দফা বৈঠক হয়েছে এবং কিছু বিষয়ে সমঝোতা হলেও কিছু জায়গায় এখনও মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
চেয়ারম্যান আশ্বস্ত করে বলেন, “চুক্তিটি সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করেই করা হবে।” তার মতে, আলোচনা শেষ হওয়ার পর চুক্তি স্বাক্ষরে অন্তত তিন মাস সময় লাগবে। এরপর ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত একটি পরীক্ষামূলক (টেস্ট রান) পরিচালনা করা হবে। এই টেস্ট রানের প্রায় ছয় মাস পর সীমিত পরিসরে টার্মিনাল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দ্রুত শিফটিংয়ের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে ঝুঁকি অনেক বেশি। গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, এক বিমানবন্দর থেকে অন্যটিতে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে প্রায় ৭৪ শতাংশ ক্ষেত্রেই সমস্যা বা ব্যর্থতা দেখা যায়। তাই তাড়াহুড়া না করে ধীরে এবং পরিকল্পিতভাবে এগোনোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
টার্মিনালে স্থাপিত বিভিন্ন আধুনিক সরঞ্জামের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও আশ্বস্ত করেছেন বেবিচক চেয়ারম্যান। তিনি জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এডিসি নিয়মিতভাবে এসব সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ করছে এবং ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তা চালিয়ে যেতে পারবে। এমনকি প্রয়োজনে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত সহায়তা দেওয়ার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ভবিষ্যতে জাপানি প্রতিষ্ঠান দায়িত্ব পেলে তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে এই রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম চালানো হবে।
তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার কথাও জানান তিনি। জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পাশাপাশি একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা হবে, যাতে প্রতিযোগিতা তৈরি হয় এবং সেবার মান আরও উন্নত হয়।
এছাড়া আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) অডিট নিয়েও কথা বলেন চেয়ারম্যান। সর্বশেষ অডিট ২০১৮ সালে সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ২০২৪ সালে অডিট হওয়ার কথা থাকলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে তা স্থগিত হয়। চলতি বছরের অক্টোবরে একটি অডিট টিম আসার সম্ভাবনা রয়েছে, আর মূল অডিট ২০২৭ সালের মাঝামাঝি থেকে শেষের দিকে অনুষ্ঠিত হতে পারে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তৃতীয় টার্মিনাল চালু করতে কাজ এগিয়ে চলেছে বলে জানিয়েছে বেবিচক। সংশ্লিষ্টদের আশা, পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু এগোলে দেশের বিমান চলাচল খাতে একটি নতুন যুগের সূচনা হবে।