Date: May 08, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / সারাদেশ / বরিশাল / শহিদ হাদির নামে শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত লঞ্চঘাটের নামকরণ - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

শহিদ হাদির নামে শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত লঞ্চঘাটের নামকরণ

December 26, 2025 12:59:37 PM   অনলাইন ডেস্ক
শহিদ হাদির নামে শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত লঞ্চঘাটের নামকরণ

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত লঞ্চঘাটের নামকরণ করা হয়েছে শহিদ শহিদ শরীফ ওসমান হাদির নামে। জন্মস্থান ও শৈশবের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা এই লঞ্চঘাটের নাম এখন থেকে তার নামে পরিচিত হবে।
বরিশাল বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ওসমান হাদির জন্ম নলছিটিতে। তার শৈশব, বেড়ে ওঠা এবং জীবনসংগ্রামের সঙ্গে এই লঞ্চঘাট এলাকার নিবিড় সম্পর্ক ছিল। সেই কারণেই নলছিটি লঞ্চ টার্মিনালের নাম পরিবর্তন করে তাকে স্মরণীয় করে রাখা হলো। বর্তমানে টার্মিনালের সংস্কার ও রঙের কাজও চলমান রয়েছে।


ওসমান হাদির জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল এই লঞ্চঘাট। এখানে তার জন্ম, শৈশব এবং কৈশোরের স্মৃতিময় দিনগুলো কেটেছে। লঞ্চঘাট থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে তার পৈতৃক বাড়ি। নদীর ধারে দাঁড়িয়ে মানুষের আসা-যাওয়া দেখা, লঞ্চের ভিড়ে সময় কাটানো—এই সব অভিজ্ঞতা তার বেড়ে ওঠার নীরব সাক্ষী হিসেবে রয়ে গেছে। আজ এই ঘাটে স্থায়ীভাবে যুক্ত হলো তার নাম।


স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, “আমরা চেয়েছি হাদির স্মরণে এমন কিছু হোক, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম মনে রাখবে। তার শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত লঞ্চঘাটের নাম তার নামে হওয়া নিঃসন্দেহে স্মরণীয় সিদ্ধান্ত। এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ।”
লঞ্চঘাট এলাকার ব্যবসায়ী শাহাদাত আলম ফকির জানান, “আমরা হাদিকে ছোটবেলা থেকে এই ঘাটে দেখেছি। সে এখানকারই ছেলে ছিল। আজ তার নামে ঘাটের নামকরণ হওয়ায় আমরা গর্বিত।” প্রতিবেশী বেলায়েত হোসেন নান্নু বলেন, “হাদি এই এলাকার সন্তান। এই ঘাট, এই নদী, এই মানুষ—সবকিছুতেই তার স্মৃতি ছড়িয়ে আছে। লঞ্চঘাটের নাম তার নামে হওয়া মানে, সে এখানেই চিরদিন বেঁচে থাকবে।”
উল্লেখ্য, ১২ ডিসেম্বর দুপুরে হত্যার উদ্দেশ্যে ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। পরবর্তীতে তার মরদেহ দেশে এনে লক্ষ জনতার উপস্থিতিতে জানাযার নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে তাকে দাফন করা হয়।