Date: May 05, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / সারাদেশ / ঢাকা / যে গ্রামে বিয়ের কথা উঠলেই পিছিয়ে যায় সবাই - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

যে গ্রামে বিয়ের কথা উঠলেই পিছিয়ে যায় সবাই

May 05, 2026 06:01:19 PM   অনলাইন ডেস্ক
যে গ্রামে বিয়ের কথা উঠলেই পিছিয়ে যায় সবাই

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার মোকনা ইউনিয়নের চাঁনপাড়া গ্রাম-যেখানে যাতায়াতের দুর্ভোগ এতটাই চরম যে, বাইরের মানুষ এই গ্রামের সঙ্গে বিয়ের সম্পর্ক গড়তেও অনাগ্রহী। দীর্ঘদিন ধরে একটি খালের ওপর সেতু না থাকায় বিচ্ছিন্নতার মতো জীবনযাপন করছেন স্থানীয়রা। অবকাঠামোগত এই সংকট শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাকেই বাধাগ্রস্ত করেনি, বরং সামাজিক সম্পর্ক ও জীবনমানেও ফেলেছে নেতিবাচক প্রভাব।

গ্রামটির প্রধান সড়কের মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া একটি খালই যেন চাঁনপাড়ার মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা। খালের ওপর কোনো সেতু না থাকায় বছরের বেশিরভাগ সময় ঝুঁকি নিয়েই পারাপার করতে হয়। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে-পানিতে ভরে যায় পথঘাট, কাদা ও পিচ্ছিলতায় চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে।

এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। স্কুলে যেতে প্রতিদিন কাদা মাড়িয়ে যেতে হয় তাদের। অনেক সময় বই-খাতা ভিজে নষ্ট হয়ে যায়, ফলে পড়াশোনাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একইভাবে জরুরি রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে গেলেও পড়তে হয় চরম বিপাকে। সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয় প্রায়ই।

গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কাদের জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় হাঁটা দায় হয়ে পড়ে। অনেকেই পিছলে পড়ে আহত হন। অসুস্থ রোগী নিয়ে বের হলে পরিস্থিতি আরও সংকটজনক হয়ে ওঠে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি নির্বাচনে জনপ্রতিনিধিরা সড়ক ও সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচনের পর সেই প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবায়ন হয় না। বছরের পর বছর একই অবস্থায় পড়ে আছে গ্রামটি, কিন্তু কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।

এই দুরবস্থার সামাজিক প্রভাবও পড়েছে স্পষ্টভাবে। গ্রামের বাসিন্দা রাবেয়া বেগম বলেন, যাতায়াতের কষ্ট দেখে কেউ এই গ্রামের সঙ্গে বিয়ের সম্পর্ক করতে চায় না। ফলে সামাজিক বন্ধন তৈরিতেও বাধা তৈরি হচ্ছে।

অন্যদিকে, যানবাহন চলাচল করতে না পারায় মানুষের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে হাঁটা বা ঘোড়ার গাড়ি। এতে কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে গিয়ে চরম সমস্যায় পড়ছেন কৃষকেরা। উৎপাদিত পণ্য সময়মতো বাজারে নিতে না পারায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা।

এ বিষয়ে মোকনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম জানান, জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার বিষয়টি জানানো হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।

নাগরপুর উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ের প্রকৌশলী ইফতেখার সারোয়ার ধ্রুব বলেন, জনদুর্ভোগ কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট সময়সীমা সম্পর্কে তিনি কিছু জানাননি।

চাঁনপাড়া গ্রামের মানুষ বছরের পর বছর ধরে অবহেলা ও দুর্ভোগের মধ্যেই দিন কাটাচ্ছেন। তাদের প্রত্যাশা—দ্রুত সেতু ও সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে এই দীর্ঘদিনের কষ্টের অবসান ঘটাবে কর্তৃপক্ষ।