Date: March 04, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / রাজধানী / মেকানিকের ব্যাংক হিসাবে মাত্র চার দিনে দেড় কোটি টাকার লেনদেন! - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

মেকানিকের ব্যাংক হিসাবে মাত্র চার দিনে দেড় কোটি টাকার লেনদেন!

November 29, 2025 06:52:54 PM   অনলাইন ডেস্ক
মেকানিকের ব্যাংক হিসাবে মাত্র চার দিনে দেড় কোটি টাকার লেনদেন!

রাজধানীর উত্তরার টিনের চালওয়ালা ছোট একটি ইলেকট্রনিকস মেরামতের দোকান—‘এসএমএস রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং’। মালিক শফিকুল ইসলাম পেশায় একজন মেকানিক। দোকান দেখে কেউই অনুমান করতে পারবে না যে এই প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবেই মাত্র চার দিনে লেনদেন হয়েছে দেড় কোটি টাকা। বিদেশি কার্ডে ৫০০-এর বেশি লেনদেন, জাল বিক্রয় রশিদ, আর এক চীনা ব্যবসায়ীর রহস্যময় সম্পৃক্ততা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ঘিরে তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন।

ইউসিবি ব্যাংকের হিসাবে দেখা যায়, সপ্তাহব্যাপী ৫৪৭টি বিদেশি কার্ড ব্যবহার করে ৬৬৩টি লেনদেনের মাধ্যমে এই বিপুল অর্থ আসে শফিকুলের অ্যাকাউন্টে। পরে পস মেশিন ব্যবহার করে তিনি সেই টাকার বেশিরভাগই তুলে নেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অস্বাভাবিক লেনদেন দেখে অ্যাকাউন্ট স্থগিত করে এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র চেয়ে চিঠি দেয়।

টাকার উৎস জানতে তদন্তকারী দল শফিকুল ইসলামকে প্রশ্ন করলে তিনি দাবি করেন, বিদেশি ক্রেতাদের কাছে দেড় কোটি টাকার মতো এসি বিক্রি করেছেন। তবে তার দেখানো বিক্রয় রশিদে দেখা যায়, প্রতিটি রশিদের ক্রমিক নম্বর একই ধারায় সাজানো—অর্থাৎ ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য জাল রশিদ তৈরি করা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদে শেষ পর্যন্ত শফিকুল স্বীকার করেন, তার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেন ইয়ান নামে এক চীনা ব্যবসায়ী, যিনি বিদেশ থেকে টাকা এনে তার হিসাবের মাধ্যমে উত্তোলন করেন। এর বিনিময়ে শফিকুল পান মোটা অঙ্কের টাকা।

ইয়ান বাংলাদেশে চামড়াজাত পণ্যের ব্যবসা ও বিভিন্ন চীনা প্রকল্পে ঠিকাদারির কাজ করেন। উত্তরার ৫ নম্বর সেক্টরের একটি বাড়ি পুরো ভাড়া নিয়ে সেখানে থাকেন তিনি। তবে অনুসন্ধান দল তার বাড়িতে গিয়ে তাকে পায়নি। ফোনেও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। পরে তার স্ত্রীকে পাওয়া গেলে তিনিও কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি। ইয়ানের একাধিক সহযোগীর সাথেও কথা বলা চেষ্টা ব্যর্থ হয়। অবশেষে উত্তরার রাস্তায় ইয়ানের দেখা মিললেও তিনি ক্যামেরা বন্ধ করার ইশারা করে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

ব্যাংকের দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এত অস্বাভাবিক লেনদেনের পরও শফিকুল কীভাবে নির্বিঘ্নে টাকা তুললেন—এই বিষয়ে ইউসিবি ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক কোনো মন্তব্য না করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলতে বলেন। এদিকে অভিযোগ উঠেছে, শফিকুলের আপন ভাই ইউসিবি ব্যাংকের বনানী শাখায় কর্মরত এবং এই লেনদেনে তাকে সহযোগিতা করেছেন।

চার দিনে দেড় কোটি টাকার এই রহস্যময় লেনদেন এখন তদন্ত সংস্থার নজরে। কোথা থেকে আসছে এই অর্থ, কারা জড়িত, আর কী উদ্দেশ্যে এই নগদ প্রবাহ—সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে অনুসন্ধান দল।