


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মো. আরিফুল ইসলাম জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী। দুই পায়ে ঠিকভাবে ভর রাখতে পারেন না, কিন্তু এই শারীরিক সীমাবদ্ধতা কখনোই তাকে জীবনের সঙ্গে লড়াই থেকে পিছিয়ে রাখতে পারেনি। আত্মসম্মান এবং সাহসকে ভরসা করে প্রতিদিনই তিনি জীবনের প্রতিটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছেন।
কসবা বাজারের ফুটপাতে ছোট্ট একটি স্টল দিয়েছেন আরিফুল। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সেখানে বসে তিনি ওজন মাপার যন্ত্রের মাধ্যমে ক্রেতাদের ওজন মাপেন এবং প্রতি মাপে ৫ টাকা আয় করেন। সঙ্গে বিক্রি করেন মোবাইলের কভার, চার্জার ও কিছু ছোটখাটো পণ্য। দোকানটি ছোট, আয় সীমিত—তবু কখনো কারও কাছে হাত পাতেন না।
আরিফুল জানান, অনেকেই তাকে ভিক্ষা করতে বলেন, কিন্তু তিনি তা করতে চান না। মা ও স্ত্রীকে নিয়ে কোনোমতো সংসার চালাচ্ছেন। তিনি আল্লাহর কাছে শুধু প্রার্থনা করেন, তার দোকান যেন সুষ্ঠুভাবে চলতে থাকে। রোদ, বৃষ্টি বা ঝড়—কিছুই তাকে থামাতে পারে না। প্রতিদিন নিয়মিত নিজের স্টলে বসে কাজ চালিয়ে যান।
স্থানীয় ক্রেতাদের মতে, এমন মানসিক শক্তি খুব কম মানুষের মধ্যে থাকে। আরিফুলের উদাহরণ দেখলে বোঝা যায়, সত্যিকারের প্রতিবন্ধকতা শরীরে নয়, মনের ভিতরে। তার দোকানে তেমন সাজসজ্জা নেই, ক্রেতার ভিড়ও কম, তবু তিনি কোনো অভিযোগ করেন না। তার দৃঢ় বিশ্বাস, সৎ পথে উপার্জিত রুটিই জীবনের শান্তি এনে দেয়।
স্থানীয় বাজার কমিটির এক সদস্য জানান, তারা ইতোমধ্যেই আরিফুলের দোকানের জায়গা কিছুটা বড় করার বিষয়টি আলোচনা করছেন। এমন মানুষ সমাজের জন্য এক অমূল্য সম্পদ।