


দেশে পেট্রল, ডিজেল, অকটেন ও জেট ফুয়েলের মজুদ স্বাভাবিক পর্যায়ে রয়েছে, যা নিশ্চিত করছে যে আগামীদিনে জ্বালানি সংকটের কোনো সম্ভাবনা নেই। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সচিবালয়ে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, দেশব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং ডিজেলসহ অন্যান্য জ্বালানির দাম ও সরবরাহে কোনো অস্বাভাবিকতা নেই।
সংবাদ সম্মেলনে যুগ্ম সচিব বলেন, বর্তমানে দেশে মোট ১ লাখ ৯২ হাজার ৯১৯ মেট্রিক টন জ্বালানি তেলের মজুদ আছে। এর মধ্যে ডিজেল ১ লাখ ২৮ হাজার ৯৩৯ মেট্রিক টন, অকটেন ৭ হাজার ৯৪০ মেট্রিক টন, পেট্রল ১১ হাজার ৪৩১ মেট্রিক টন এবং জেট ফুয়েল ৪৪ হাজার ৬০৯ মেট্রিক টন সংরক্ষিত আছে। তিনি উল্লেখ করেন, মার্চ মাসে জ্বালানি তেলের কোনো সমস্যা দেখা দেয়নি এবং এপ্রিলেও কোনো সংকট হবে না।
ডিজেল পাচার রোধের জন্য সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকার জ্বালানি বিক্রয়ে স্বচ্ছতা বাড়াতে একটি মোবাইল অ্যাপ তৈরি করছে, যা পরীক্ষামূলকভাবে সপ্তাহখানেকের মধ্যে চালু হবে। সরকারের তৎপরতায় সোমবার সারাদেশে অভিযান চালিয়ে ৮৭,৭০০ লিটার অবৈধভাবে মজুদ করা জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট ২ লাখ ৯৬ হাজার লিটার জ্বালানি তেল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
মনির হোসেন চৌধুরী আরও বলেন, এলএনজি ও এলপিজি সরবরাহেও কোনো সমস্যার আশঙ্কা নেই, কারণ নির্ধারিত পরিমাণ জ্বালানি দেশে পৌঁছেছে। এ ছাড়া ডিপো থেকে পাম্পে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিকভাবে চলছে, এবং তেল কম দেওয়া বা সরবরাহে গতি হ্রাসের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনা এখন সুষ্ঠু ও স্থিতিশীল, যা সাধারণ মানুষ ও শিল্পখাতের জন্য স্বস্তির বার্তা বহন করছে।