Date: May 17, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / জাতীয় / চাহিদার চেয়ে দেশে জ্বালানি মজুত বেশি! - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

চাহিদার চেয়ে দেশে জ্বালানি মজুত বেশি!

March 30, 2026 07:58:30 PM   দেশেরপত্র ডেস্ক
চাহিদার চেয়ে দেশে জ্বালানি মজুত বেশি!

জাতীয় সংসদে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আশ্বস্ত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে কোনো জ্বালানি সংকট নেই; বরং সম্ভাব্য চাহিদার চেয়েও বেশি মজুত ও প্রস্তুতি রয়েছে সরকারের।

সোমবার (৩০ মার্চ) সংসদ অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি বলেন, অযথা আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি ক্রয় ও মজুত করার প্রবণতাই বাজারে কৃত্রিম চাপ সৃষ্টি করছে। জনমনে বিভ্রান্তি দূর করতেই এ বক্তব্য দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে চাপ থাকলেও তারেক রহমান-এর নির্দেশনায় সরকার আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। ফলে দেশে জ্বালানি সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই, বরং গত বছরের তুলনায় সরবরাহ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, বর্তমানে ডিজেলের মজুত ২ লাখ ১৮ হাজার মেট্রিক টন, যা দায়িত্ব গ্রহণের সময়ের তুলনায় বেশি। গত ৪১ দিনে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি বিক্রি হলেও মজুত বেড়েছে—এটি সরকারের পরিকল্পিত সরবরাহ ব্যবস্থার প্রমাণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, গত বছরের চাহিদার ভিত্তিতে এবার ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে বাস্তবে চাহিদা সে অনুযায়ী বাড়েনি। বরং অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনের অতিরিক্ত কেনাকাটার কারণে ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে।

অকটেন ও পেট্রোলের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার উদাহরণ দিয়ে মন্ত্রী জানান, কিছু পাম্পে গত বছরের তুলনায় বিক্রি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এটি স্বাভাবিক চাহিদা নয়, বরং আতঙ্কজনিত অতিরিক্ত সংগ্রহের ফল।

জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ইতোমধ্যে হাজারের বেশি অভিযান চালানো হয়েছে। এসব অভিযানে ১৫৩টি মামলা, ৭৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং ১৬ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ অবৈধভাবে মজুদ করা জ্বালানি উদ্ধার করা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, এপ্রিলে ৫০ হাজার টন অকটেন আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং দেশীয় উৎস থেকেও ৩০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি পাওয়া যাবে। এতে সরকারের বর্তমান মজুত দিয়ে অন্তত দুই মাসের চাহিদা পূরণ সম্ভব।

জ্বালানি খাতে সরকারের বড় অঙ্কের ভর্তুকির কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, শুধু মার্চ-জুন প্রান্তিকেই ডিজেল ও অকটেনে ১৬ হাজার ৪৫ কোটি এবং এলএনজি আমদানিতে ১৫ হাজার ৭৭ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রয়োজন হবে।

শেষে তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অপ্রয়োজনীয় অপচয় এড়িয়ে সাশ্রয়ীভাবে জ্বালানি ব্যবহার করতে হবে। সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব।