Date: May 08, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / সারাদেশ / সিলেট / কমলগঞ্জে পেঁয়াজের ঝাঁজে কাঁপছে বাজার, চড়া সব ধরনের সবজির দাম - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

কমলগঞ্জে পেঁয়াজের ঝাঁজে কাঁপছে বাজার, চড়া সব ধরনের সবজির দাম

November 17, 2025 01:55:46 PM   উপজেলা প্রতিনিধি
কমলগঞ্জে পেঁয়াজের ঝাঁজে কাঁপছে বাজার, চড়া সব ধরনের সবজির দাম

শীতের আগাম সবজি বাজারে এলেও স্বস্তি মিলছে না মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের ক্রেতাদের। পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ৭০ টাকা থেকে বেড়ে ১২০-১৩০ টাকায় ঠেকেছে। এর প্রভাবে ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, বেগুনসহ অধিকাংশ সবজিই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) সকালে উপজেলার ভানুগাছ বাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।

বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে সরবরাহ কম থাকায় দাম বেশি। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, সিন্ডিকেটের কারসাজিতে বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। বর্তমানে বাজারে ৭০ থেকে ১০০ টাকার নিচে ভালো কোনো সবজি মিলছে না। বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১২০-১৬০ টাকা, শিম ৯০-১২০ টাকা, ফুলকপি ৭০-৮০ টাকা, বেগুন ৭০-৮০ টাকা, টমেটো ১০০-১১০ টাকা, গাজর ১৪০-১৬০ টাকা, বরবটি ৯০-১০০ টাকা এবং বাঁধাকপি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় প্রতিটি সবজির দাম কেজিতে ৩০-৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। কেবল পেঁপে (৩০ টাকা) ও মিষ্টি কুমড়া (৪০ টাকা) কিছুটা সাশ্রয়ী দামে পাওয়া যাচ্ছে।

নিত্যপণ্যের এমন ঊর্ধ্বগতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। ক্রেতা নুর হোসেন বলেন, "আগে সবজি কিনে স্বস্তি পেতাম, এখন সবজিও যেন বিলাসপণ্য। ৭০-১০০ টাকার নিচে কিছুই কেনার উপায় নেই।"

এক দিনমজুর ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “শীতের শুরুতে সস্তায় তরতাজা সবজি কেনার দিন আর নেই। প্রতি বছর দাম শুধু বাড়ছেই, কমার কোনো লক্ষণ দেখি না।”

আরেক ক্রেতা আখলিস মিয়া জানান, “কিছুদিন আগে সবজির দাম কিছুটা কমেছিল। এখন আবার পেঁয়াজের আগুনে আমাদের কষ্ট বাড়ছে।”

শুধু সবজি নয়, দাম বেড়েছে মাছ-মাংস ও ডিমের বাজারেও। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৭০-১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৯০-৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৭৫০-৮০০ এবং খাসির মাংস ১১০০ টাকা কেজি। ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায়।

মাছের বাজারেও দাম চড়া। প্রতি কেজি রুই ৪০০-৪৩০, টেংরা ৫৫০-৬০০, তেলাপিয়া ১৬০-২০০ এবং ইলিশ আকারভেদে ৭০০-১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারের এই পরিস্থিতি নিয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাখন চন্দ্র সূত্রধর বলেন, “সবজির সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। কেউ সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানোর সুযোগ নিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা নিয়মিত বাজার তদারকি করছি।”