


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার উন্নতির খবরকে ঘিরে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ও আশাবাদের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন এই জ্যেষ্ঠ বিএনপি নেতাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ফাইট দ্য অডস অ্যান্ড কামব্যাক কমরেড লিখে তিনি মির্জা আব্বাসের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। একই সঙ্গে বিএনপির পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, তিনি এখন শঙ্কামুক্ত এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।
বুধবার (৬ মে) সন্ধ্যায় বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অবস্থিত প্রিন্স কোর্ট মেডিক্যাল সেন্টারে চিকিৎসাধীন মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা এই বিএনপি নেতা এখন আগের তুলনায় অনেকটাই স্থিতিশীল।
শারীরিক অবস্থার উন্নতির খবর প্রকাশের পর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে মির্জা আব্বাসকে নিয়ে ফটোকার্ড প্রকাশ করা হয়। সেই ফটোকার্ডের একটি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেন এনসিপির নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সেখানে তিনি ইংরেজিতে লেখেন, ফাইট দ্য অডস অ্যান্ড কামব্যাক কমরেড - যার বাংলা অর্থ দাঁড়ায়, “সব প্রতিকূলতা জয় করে ফিরে আসুন, কমরেড।” তার এই পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
দীর্ঘদিন ধরেই দেশের রাজনীতিতে সক্রিয় ও আলোচিত নেতা মির্জা আব্বাস। গত ১১ মার্চ ইফতারের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকদের পরামর্শে তার মাথায় অস্ত্রোপচার করা হয়। অবস্থার জটিলতা বিবেচনায় পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রথমে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে আরও বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর করা হয় মালয়েশিয়ায়।
বিএনপির মিডিয়া সেলের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মির্জা আব্বাস পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে পারছেন এবং চিকিৎসকদের নির্দেশনা মেনে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছেন। তার সহধর্মিণী ও বিএনপি নেত্রী আফরোজা আব্বাসের বরাতে শায়রুল কবির খান জানান, মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী ঈদুল আজহার আগেই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
দীর্ঘ চিকিৎসা ও অনিশ্চয়তার পর মির্জা আব্বাসের সুস্থতার খবরে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যেও স্বস্তি ফিরে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে শুভকামনা জানাচ্ছেন দলীয় নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।