Date: May 08, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / সারাদেশ / চট্টগ্রাম / কনকনে শীতে রাস্তায় পাওয়া দুই শিশুর এক জনের মৃ'ত্যু - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

কনকনে শীতে রাস্তায় পাওয়া দুই শিশুর এক জনের মৃ'ত্যু

January 05, 2026 06:50:04 PM   দেশেরপত্র ডেস্ক
কনকনে শীতে রাস্তায় পাওয়া দুই শিশুর এক জনের মৃ'ত্যু

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় কনকনে শীতে সড়কের পাশে উদ্ধার হওয়া দুই শিশুর মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (এনআইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়। উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, কয়েক দিন ধরে শিশুটি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিল। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

প্রাথমিকভাবে শিশুটি ৩০ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পরদিন তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। আইসিইউতে চিকিৎসকদের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে থাকা সত্ত্বেও শিশুটির জীবন রক্ষা সম্ভব হয়নি। অপরদিকে, মোর্শেদের চার বছর বয়সী বোন আয়েশা বর্তমানে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন। তিনি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন, তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শারীরিক অবস্থা আগের তুলনায় কিছুটা উন্নতির দিকে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা ও দেখভালের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, শিশু দুটির ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। শিশুটির মানসিক অবস্থার প্রতিও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ ও প্রশাসন সূত্র জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শিশুদের বাবা পারিবারিক কলহ ও অভাবের কথা স্বীকার করেছেন। শিশুদের বাড়ি খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলার মহামনি এলাকায় বলে জানা গেছে।

আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার কালবেলাকে জানিয়েছেন, মৃত শিশুর মরদেহ তার দাদির কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মরদেহটি খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলার লেমুয়া ইউনিয়নের নিজ গ্রামে নিয়ে যাওয়া হবে। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি আরও জানিয়েছেন, মোর্শেদ জন্মগতভাবে প্রতিবন্ধী ছিল এবং চর্মরোগসহ একাধিক শারীরিক জটিলতায় ভুগছিল। দীর্ঘদিনের অপুষ্টি ও অবহেলার কারণে তার শারীরিক অবনতি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর রাতে চট্টগ্রামের পিএবি সড়কের পাশে অভিভাবকহীন অবস্থায় দুই শিশুকে উদ্ধার করেন স্থানীয় এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক। বিষয়টি জানাজানি হলে মানবিক বিবেচনায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসন দ্রুত শিশু দুটির দায়িত্ব গ্রহণ করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। ঘটনায় গত ৩১ ডিসেম্বর রাতে শিশুদের বাবা খোরশেদ আলম আনোয়ারা থানায় এসে খোঁজ নিতে আসেন। পরে আদালতের নির্দেশে পুলিশ তাকে আটক করে হেফাজতে নেয় এবং অরক্ষিত অবস্থায় শিশুদের পরিত্যাগ ও নির্যাতনের অভিযোগে মা-বাবার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। বর্তমানে শিশুর বাবা কারাগারে রয়েছেন।