


পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দীর্ঘ ছুটি শুরু হওয়ায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ ছুটি থাকায় অনেকেই আগেই বাড়ি ফিরছেন। আর আজ সোমবার (১৬ মার্চ) সরকারি চাকরিজীবীদের শেষ কর্মদিবস হওয়ায় আগামীকাল থেকে টানা সাত দিনের ছুটি কাটাবেন তারা।
ঈদের ছুটিতে অনেকেই বাড়ি ফাঁকা রেখে গ্রামে বা অন্যত্র যান। তাই বের হওয়ার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খেয়াল রাখা প্রয়োজন। সামান্য অসতর্কতা বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে গ্যাস সিলিন্ডার কিংবা গ্যাসের মূল লাইন অবশ্যই বন্ধ করে যেতে হবে। এতে গ্যাসজনিত দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমে যায়। ছুটি শেষে বাড়ি ফিরে চুলা জ্বালানোর আগে কিছু সময় দরজা-জানালা খুলে রাখা ভালো, যাতে ঘরে জমে থাকা গ্যাস বের হয়ে যায়। একই সঙ্গে বাসার পানির কলগুলো ঠিকভাবে বন্ধ আছে কি না সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেও অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে। তাই বাড়ি ছাড়ার আগে লাইট, ফ্যান ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রের সব সুইচ বন্ধ আছে কি না তা দেখে নেওয়া জরুরি। প্রয়োজন হলে প্রধান বিদ্যুৎ সংযোগও বন্ধ রাখা যেতে পারে।
অনেকেই ফ্রিজে খাবার, সবজি বা অন্যান্য দ্রব্য রাখেন। তবে দীর্ঘদিনের জন্য বাড়ি ছাড়ার আগে পচনশীল খাবার শেষ করে ফেলা ভালো। ফ্রিজে খাবার না থাকলে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে রাখা যেতে পারে। বের হওয়ার আগে ফ্রিজ পরিষ্কার করে নেওয়া উচিত, যাতে ভেতরে কোনো খাবার নষ্ট হয়ে দুর্গন্ধ সৃষ্টি না করে।
যাদের বাসায় পোষা প্রাণী রয়েছে, তাদের একা রেখে যাওয়া ঠিক নয়। সম্ভব হলে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে, না হলে পরিচিত কারো কাছে রেখে যাওয়া ভালো। প্রয়োজনে পোষা প্রাণীর যত্ন নেওয়ার নির্দিষ্ট সেবাকেন্দ্রেও রাখা যেতে পারে।
ঈদের সময় অনেক বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগ নেয় চোরচক্র। তাই বাসার দরজায় ভালো মানের তালা লাগানো জরুরি। ছাদ, বারান্দা ও সব দরজা-জানালা ঠিকভাবে বন্ধ আছে কি না তা নিশ্চিত করতে হবে। আলমারি বা দেরাজে রাখা নগদ টাকা, অলঙ্কার ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিরাপদে তালাবদ্ধ করে রাখতে হবে।
এ ছাড়া বাড়ি ছাড়ার আগে রান্নাঘর পরিষ্কার করা, থালা-বাসন ধুয়ে রাখা এবং ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলে দেওয়া ভালো। এতে বাড়ি ফিরে দুর্গন্ধ বা অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে না।