


দেশের জ্বালানি সংকট নিয়ে সরকার জনগণের কাছে প্রকৃত চিত্র লুকিয়ে রেখেছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় জামায়াতে ইসলামী ঢাকা জেলার আয়োজিত দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “সংসদে এমনভাবে বলা হচ্ছে যেন দেশে কোনো জ্বালানি সংকট নেই, বরং উদ্বৃত্ত তেলে ভাসছে বাংলাদেশ। বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে বাধ্য হচ্ছে।”
জামায়াত আমির বলেন, অনেক পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে না, আবার কোথাও কোথাও তেল অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তুলেন, “যদি সংকটই না থাকে, তাহলে মানুষ কেন এতক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে বাধ্য হচ্ছে?” তিনি অভিযোগ করেন, সরকার জনগণের সামনে প্রকৃত পরিস্থিতি তুলে ধরছে না এবং বিষয়টি নিয়ে লুকোচুরি করছে।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, বিএনপির দেওয়া “সবাইকে নিয়ে বাংলাদেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” স্লোগান বাস্তবে কার্যকর হচ্ছে না। সরকারের পদক্ষেপে দেখা যাচ্ছে সাধারণ জনগণ ও বড় রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে সমন্বয় করা হচ্ছে না। তিনি বলেন, সরকার নির্বাচনের আগ পর্যন্ত গণভোটের জন্য একমত ছিল, কিন্তু দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন পাওয়া মাত্রই অবস্থান পরিবর্তন করা হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমরা আমাদের অবস্থানে আছি। জনগণ আমাদের প্রতিনিধিত্বের জন্য ভোট দিয়েছে এবং রাষ্ট্র মেরামতের জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিয়েছে, কিন্তু তা মানা হচ্ছে না।”
সংবিধান প্রণয়ন নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, “জামায়াতে ইসলামী কাটাছেঁড়া সংবিধান চায় না। দীর্ঘদিন আমরা জনগণের অধিকারের জন্য আন্দোলন করেছি এবং আবারও মাঠে নামব।”
শিক্ষাক্ষেত্রে অনলাইনে ক্লাসের প্রসঙ্গেও তিনি সতর্কবার্তা দেন। শফিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘ সময় কম বয়সের শিক্ষার্থীরা ডিভাইস ব্যবহার করলে তাদের মনোযোগ ও চিন্তাশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, মেধার অপমৃত্যু ঘটতে পারে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কথা বলা হলেও বাস্তবে এতে আরও বেশি বিদ্যুৎ অপচয় হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা জেলার আমির মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও এমপি সাইফুল আলম খান মিলন সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।