Date: May 14, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / লাইফস্টাইল / চীনের একটি ছোট্ট গ্রামে বসবাস করেন ১০২ বছর বয়সী এক নারী - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

চীনের একটি ছোট্ট গ্রামে বসবাস করেন ১০২ বছর বয়সী এক নারী

March 15, 2026 11:23:34 AM   অনলাইন ডেস্ক
চীনের একটি ছোট্ট গ্রামে বসবাস করেন ১০২ বছর বয়সী এক নারী

চীনের একটি ছোট্ট গ্রামে বসবাস করেন ১০২ বছর বয়সী এক নারী। তাঁর সহজ-সরল জীবনযাপনের গল্প সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে এবং বহু মানুষের মন জয় করেছে।

ওই নারীর নাম জিন বাওলিং। তিনি চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশের তাইঝৌ শহরের একটি গ্রামে থাকেন। তাঁর ছেলে, পুত্রবধূ এবং নাতি-নাতনিরা নিয়মিত তাঁর খোঁজখবর নিতে আসেন।

হাসিখুশি স্বভাবের কারণে জিন গ্রামে বেশ জনপ্রিয়। গ্রামের বাসিন্দারা শতবর্ষী এই নারীকে স্নেহভরে ‘ওল্ড বেবি’ বলে ডাকেন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শত বছর পার করলেও জিন এখনো মানসিকভাবে সতেজ এবং শারীরিকভাবে বেশ সুস্থ। গত ৫০ বছরে তাঁকে কখনো হাসপাতালে যেতে হয়নি।

জিনের প্রতিদিনের জীবনযাপনও বেশ নিয়মতান্ত্রিক। তিনি প্রতিদিন সকাল ৯টার দিকে ঘুম থেকে ওঠেন। হাতমুখ ধুয়ে বাগানে কিছুক্ষণ রোদ পোহান। সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে রাতের খাবার শেষ করে তিনি ঘুমাতে যান। দিনের বেলাতেও কিছু সময় ঘুমিয়ে নেন।

তাঁর ছেলে হু হুয়ামেই জানান, তাঁর মা দিনে প্রায় ১৫ ঘণ্টাও ঘুমিয়ে থাকতে পারেন।

খাবারের বিষয়েও জিনের রয়েছে নিজস্ব নিয়ম। সকালের নাশতায় তিনি ডাম্পলিং ও বান খেতে পছন্দ করেন। দুপুর ও রাতের খাবারে সাধারণত নুডলস বা ভাত থাকে। মাংস তাঁর খুবই প্রিয়, প্রায় প্রতিদিনই তিনি মাংস খান।

প্রধান খাবারের পাশাপাশি নাশতায় তিনি কেক, রুটি এবং বাদামি চিনি ও লাল খেজুর দিয়ে বানানো চা পান করেন। এছাড়া প্রতিদিন তিনটি কমলা ও দুটি ডিম খাওয়ার অভ্যাসও রয়েছে তাঁর। তবে সবজি তিনি খুব একটা পছন্দ করেন না। নিয়মিত তিনি চাল থেকে তৈরি মদও পান করেন।

হাঁটাচলার সময় জিনের অন্যের সহায়তা প্রয়োজন হলেও তাঁর দৃষ্টিশক্তি এখনো বেশ তীক্ষ্ণ। তিনি এখনো মোজা বুনতে পারেন এবং জুতা মেরামতও করেন।

জিনের ছেলে জানান, তাঁর মায়ের সুস্থতার বড় রহস্য হলো সবসময় হাসিখুশি থাকা। তিনি কখনো কারও সঙ্গে ঝগড়া করেন না এবং কোনো সমস্যা হলে তা ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

তিনি আরও বলেন, জিন একজন সাধারণ গ্রামীণ গৃহিণী, যিনি পরিবারের সবাইকে নিয়ে মিলেমিশে থাকার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। তাঁর সবচেয়ে বড় ইচ্ছা—পরিবারের সবাই যেন সুখে-শান্তিতে একসঙ্গে বসবাস করে।