Date: May 14, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / সারাদেশ / রাজশাহী / ঈদের স্বপ্ন ভেঙে গেল, মাংস দেওয়ার নামে ৭৭ লাখ টাকা নিয়ে উধাও সমিতি - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

ঈদের স্বপ্ন ভেঙে গেল, মাংস দেওয়ার নামে ৭৭ লাখ টাকা নিয়ে উধাও সমিতি

March 18, 2026 12:30:45 PM   অনলাইন ডেস্ক
ঈদের স্বপ্ন ভেঙে গেল, মাংস দেওয়ার নামে ৭৭ লাখ টাকা নিয়ে উধাও সমিতি

ঈদকে সামনে রেখে সঞ্চয়ের মাধ্যমে মাংস দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৭৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়ে গেছে একটি সমবায় সমিতির পরিচালকরা। বগুড়া শহরের মালগ্রাম চাপড়পাড়া এলাকায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় প্রতারণার শিকার হয়েছেন প্রায় ১২০০ পরিবার। বছরের পর বছর কষ্ট করে জমানো টাকা হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ভুক্তভোগীরা।

ঘটনার সূত্রপাত হয় ‘ফোর স্টার বিজনেস সমবায় সমিতি’ নামে একটি সংগঠনকে ঘিরে। স্থানীয়ভাবে পরিচিত আব্দুল হাকিম, আকরাম এবং শাহিন নামের তিন ব্যক্তি এই সমিতি গড়ে তোলেন। তারা সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করতে ঈদে মাংস সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেন এবং সারা বছর সাপ্তাহিক কিস্তিতে টাকা জমা নেওয়ার পরিকল্পনা চালু করেন।

সমিতির সদস্যদের কাছ থেকে জানা যায়, প্রতিটি কার্ডের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫ হাজার টাকা। অনেক পরিবার একাধিক কার্ড গ্রহণ করায় অল্প সময়েই বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা পড়ে। এইভাবে প্রায় ৭৭ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়। সাধারণ মানুষ আশায় বুক বেঁধেছিলেন, ঈদের সময় তারা ১০ থেকে ১২ কেজি মাংস পাবেন এবং পরিবার নিয়ে আনন্দে উৎসব উদযাপন করবেন।

কিন্তু নির্ধারিত সময় ঘনিয়ে আসতেই শুরু হয় অনিশ্চয়তা। প্রথমে ১৫ মার্চ মাংস বিতরণের কথা থাকলেও পরে তা পিছিয়ে ১৭ মার্চ করা হয়। ওই দিন দুপুরে ভুক্তভোগীরা যখন মাংস নিতে আসেন, তখনই তারা জানতে পারেন সমিতির কোনো কার্যক্রম আর নেই। অফিস বন্ধ, সংশ্লিষ্টদের মোবাইল ফোন বন্ধ—সব মিলিয়ে পুরো বিষয়টি একটি বড় প্রতারণা হিসেবে সামনে আসে।

এই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। চাপড়পাড়া এলাকার পারুল নামের এক ভুক্তভোগী জানান, সামান্য আয়ের মধ্যেও প্রতি সপ্তাহে অল্প অল্প করে টাকা জমা দিতেন, যেন ঈদে পরিবারের মুখে হাসি ফুটাতে পারেন। কিন্তু এখন সব আশা ভেঙে গেছে। একইভাবে আখলি বেগম জানান, তিনি আশা করেছিলেন অন্তত ১০-১২ কেজি মাংস পাবেন, কিন্তু এখন ঈদে মাংস খাওয়াই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

ঘটনার পর পুরো এলাকায় চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। সমিতির অফিস বন্ধ হয়ে গেছে এবং অভিযুক্তদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে আইনগত পদক্ষেপের কথাও জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসন। কামরুজ্জামান, স্টেডিয়াম ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক, জানান—ভুক্তভোগীদের থানায় অভিযোগ দায়ের করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঈদকে ঘিরে মানুষের আবেগ ও প্রয়োজনকে পুঁজি করে সংঘটিত এই প্রতারণা স্থানীয়দের মধ্যে গভীর হতাশা তৈরি করেছে। এখন ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং তাদের কষ্টার্জিত অর্থ ফেরতের দাবি জানাচ্ছেন।