


দেশজুড়ে শীতের তীব্রতা বেড়ে গেছে এবং হাড়কাঁপানো শৈত্যপ্রবাহের স্থায়িত্ব আরও দীর্ঘ হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগসহ খুলনা, মৌলভীবাজারসহ কয়েকটি জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বইছে। এই পরিস্থিতি আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে এবং চলতি মাসে একাধিক শৈত্যপ্রবাহ আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
ঢাকা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান জানান, শনিবার (১০ জানুয়ারি) থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে, ফলে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাবে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে শ্রীমঙ্গলে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে কুয়াশার ঘনত্ব কিছুটা কমেছে, কিন্তু বাতাসের তীব্রতা বেড়ে গেছে। এই তীব্র শীতে নিম্ন আয়ের মানুষ বিপাকে পড়েছেন। গরম কাপড়ের অভাবে দরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষ শীত নিবারণের উপযুক্ত ব্যবস্থা করতে পারছেন না। সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলো শীতবস্ত্র বিতরণ করলেও তা যথেষ্ট নয়।
রাজশাহী জেলায় শীতের কারণে গরীব ও ছিন্নমূল মানুষদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই সরকার জানান, জেলার মধ্যে ৩২ হাজার কম্বল বিতরণ করা হলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা যথেষ্ট নয়। নীলফামারীতে তাপমাত্রা কয়েকদিন ধরেই ১০ ডিগ্রির আশপাশে রয়েছে। পর্যাপ্ত গরম কাপড় না থাকায় দিনরাত প্রচণ্ড ঠান্ডায় কাতর নিম্ন আয়ের মানুষ। যশোরে শৈত্যপ্রবাহের সঙ্গে ঠান্ডা বাতাসে মানুষ কাঁপছে। এই বিরূপ আবহাওয়ার কারণে আয়-রোজগার কমে যাওয়ায় হতদরিদ্ররা ভারী কাপড়ও যোগাড় করতে পারছে না।
এ পরিস্থিতি দেশের নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য শীতবস্ত্র, কম্বল ও অন্যান্য সহায়তা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা আরও প্রকটভাবে উপস্থাপন করছে।