Date: May 15, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / সারাদেশ / রাজশাহী / দড়ি ধরে মসজিদে যাওয়া সেই অন্ধ মুয়াজ্জিন আর নেই - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

দড়ি ধরে মসজিদে যাওয়া সেই অন্ধ মুয়াজ্জিন আর নেই

April 06, 2026 09:41:24 PM   অনলাইন ডেস্ক
দড়ি ধরে মসজিদে যাওয়া সেই অন্ধ মুয়াজ্জিন আর নেই

দৃষ্টিশক্তি হারিয়েও দমে যাননি, বরং দড়ি আর বাঁশের সাহায্যে প্রতিদিন মসজিদে গিয়ে আজান দিতেন—এমন অনন্য জীবনের অধিকারী নাটোরের শতবর্ষী মুয়াজ্জিন আব্দুর রহমান মোল্লা আর নেই। ১২০ বছর বয়সে তার মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

রোববার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার নগর ইউনিয়নের বড়দেহা গ্রামের এই ধর্মপ্রাণ মানুষটির জানাজা সোমবার সকাল ৯টায় স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাকে গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়।

জীবনের দীর্ঘ সময়জুড়ে ধর্মচর্চা ও মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিবেদিত রেখেছিলেন আব্দুর রহমান মোল্লা। প্রায় ২২ বছর আগে এক দুর্ঘটনায় তিনি দৃষ্টিশক্তি হারান। তবে এতে তার ইচ্ছাশক্তি ভেঙে পড়েনি। বরং কয়েক বছর পর বড় ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে পবিত্র হজ পালন করেন। দেশে ফিরে নিজ গ্রামে ৫ শতাংশ জমির ওপর একটি মসজিদ নির্মাণ করেন এবং সেই জমি মসজিদের নামে রেজিস্ট্রি করে দেন।

পরবর্তীতে তিনি নিজেই সেই মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব নেন। কিন্তু অন্ধ হওয়ায় প্রতিদিন মসজিদে যাওয়া ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। সেই বাধা কাটাতে তিনি এক অভিনব পথ বেছে নেন। তার নির্দেশনায় বাড়ি থেকে মসজিদ পর্যন্ত প্রায় ২০০ মিটার পথজুড়ে দড়ি ও বাঁশ টানানো হয়। এই দড়ি ধরেই প্রতিদিন মসজিদে যেতেন তিনি।

প্রথম দিকে ছেলেমেয়েরা তাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যেত। হাতে লাঠি দিয়ে দড়ি ও বাঁশ চিনতে শেখানো হয়। কয়েকদিনের মধ্যেই তিনি নিজেই অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন। এরপর থেকে আর কারও সাহায্য ছাড়াই নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আজান দিতে মসজিদে যেতেন তিনি।

তার এই অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও ধর্মনিষ্ঠা স্থানীয়দের কাছে ছিল অনুপ্রেরণার উৎস। বয়স, অন্ধত্ব কিংবা দূরত্ব—কোনো কিছুই তাকে থামাতে পারেনি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ইসলামের প্রচার-প্রসারে সক্রিয় ছিলেন এবং মানুষকে ধর্মের পথে আহ্বান জানিয়ে গেছেন।

তার মৃত্যুতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ এলাকাবাসী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করেন, এমন এক নিষ্ঠাবান ও দৃঢ়চেতা মানুষের জীবন থেকে শিক্ষা নেওয়ার মতো অনেক কিছু রয়েছে।

আব্দুর রহমান মোল্লার এই সংগ্রামী ও অনুপ্রেরণাদায়ক জীবনগাথা দীর্ঘদিন ধরে মানুষের মনে দাগ কেটে থাকবে। তিনি চলে গেলেও তার কর্ম ও উদাহরণ বেঁচে থাকবে নতুন প্রজন্মের মাঝে।