Ultimate magazine theme for WordPress.

মাছ উৎপাদনে সাফল্যের পথে বাংলাদেশ

বিলুপ্তপ্রায় মাছ উৎপাদনে অগ্রণী ভূমিকা রাখুন

‘মাছে ভাতে বাঙ্গালী’ কথাটির সাথে আমরা পূর্ব থেকেই পরিচিত। একসময় আমাদের দেশে মাছের দিক থেকে বেশ সমৃদ্ধ ছিল। সেই মাছ উৎপাদনের বিষয়ে চার বছর আগেই পুনরায়, সম্পূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ। বর্তমানে বাংলাদেশ মাছ উৎপাদনে সারা বিশ্বে তৃতীয় ও ইলিশ উৎপাদনে প্রথম।
মৎস অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ১৯৮৩-৮৪ অর্থবছরে মাছের মোট উৎপাদন ছিল ৭.৫৪ মেট্রিক টন। ১৯৯০ সালে এক লাখ ৯৩ হাজার টন মাছ উৎপাদিত হয়। ২০০০ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ছয় লাখ ৫৭ হাজার টনে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪০ লাখ মেট্রিক টন সেখানে মাছ উৎপাদিত হয় ৪১.৩৪ লাখ মেট্রিক টন।
মৎস ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, মাছের উৎপাদনে অন্যতম ভূমিকা ছিল ইলিশের। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৪ লাখ ৯৬ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ উৎপাদিত হয়। সর্বশেষ ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এই উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে পাঁচ হাজার মেট্রিক টন। বিশ্বের মোট ইলিশের ৭৫ ভাগ বাংলাদেশে উৎপাদন হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, মা ইলিশ রক্ষায় নদীর পরিবেশ, জাটকা সংরক্ষণ ও অভয়াশ্রম নিশ্চিত করতে পারলে বাংলাদেশ বছরে শুধুমাত্র ইলিশের বাণিজ্য ৩০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
এদিকে প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ৩১ শতাংশ মানুষ মৎস খাতে জড়িত, প্রায় ১২ শতাংশ লোক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এর উপর নির্ভরশীল। এছাড়াও মৎস ও মৎসজাত দ্রব্য রফতানিতেও অন্যতম বাংলাদেশ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মাছ রফতানি করে চার হাজার ২৮৭ কোটি টাকা বৈদেশিক মূদ্রা অর্জন হয়। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বৈদেশিক মূদ্রা আয় হয় চার হাজার ছয়’শ কোটি টাকা।
এছাড়াও বিলুপ্ত ৬৪ প্রজাতির মাছ উৎপাদনে ব্যাপক সাড়া মিলেছে। ইতোমধ্যে ১৯ প্রজাতির মাছ উৎপাদন ও চাষাবাদ প্রযুক্তি সম্পূর্ণ হয়েছে। বাকি বিলুপ্ত ৪৫ প্রজাতির মাছ উৎপাদনে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ চলছে।
সরকার যদি বিলুপ্তপ্রায় মাছ উৎপাদনে গুরুত্ব দেয় তবে দেশের মৎসখাতকে আরো অধিক উন্নত করবে। এছাড়াও মাছ চাষে সঠিক সহায়তা প্রদান ও ইলিশের প্রজনন সময়ে মাছ চাষের সাথে সম্পৃক্তদের সঠিক উপায়ে সচেতন করার মাধ্যমে মৎস সম্পদে ব্যাপক উন্নয়ন সম্ভব। এতে আমাদের জনগণের পুষ্টিলাভের বিষয়টি সহজ হবে এবং বৈদেশিক মূদ্রা অর্জনের পথও সুগম হবে।

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.