Ultimate magazine theme for WordPress.

নাগরিক অধিকার সমুন্নত আছে তো?

মাদকের ব্যাপারে যেখানে পুরো দেশকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে সেখানে মাদকের আগ্রাসী প্রভাব যেন কমছেই না। শুধুমাত্র মাদক সেবণই নয়, মাদক থেকে দূরে থাকা ব্যক্তিদের জীবনও দুর্বিষহ হয়ে উঠছে মাদকের জন্য, ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে অনেক সুখের সংসার। তেমনি একটি ঘটনা ঘটেছে রাবেয়া ও তার পরিবারের সাথে। রাবেয়ার স্বামী বিনাদোষে সৌদি আরবে ২০ বছরের হাজতবাস ভোগ করছে। তার স্বামী আবুল বাশারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তার ব্যাগে জেদ্দা এয়ারপোর্টে ইয়াবা পাওয়া গিয়েছে। অভিযোগ মিথ্যে নয় কিন্তু তিনি ‘বিনা দোষেই’ সাজা কাটছেন। সাতমাস জেলখানায় থাকার পর পুনরায় ২০ বছরের জেলের রায় শোনানো হয়েছে। সিসি টিভি ক্যামেরা ও বিমান বন্দরের আর্মড পুলিশ ঘটনাটির সত্যতা যাচাই করে এবং এ নিয়ে কাজ হচ্ছে কিন্তু কতটুকু গতিতে? একজন নির্দোষ ব্যক্তি নিজের দেশ থেকে দূরে ইতোমধ্যে মিথ্যা অভিযোগে সাত মাস জেলখানায় থেকেছে এবং ২০ বছরের সাজা মাথায় নিয়ে বসে আছে? সেখানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও ব্যক্তিবর্গের এত ‘গদাই লস্করী চাল’ কী নাগরিকদের অধিকার সমুন্নত রাখে?
রাবেয়ার দায়ের করা মামলা অনুসারে, মো. আবুল বাশার বহির্গমন টার্মিনালের ৪ নম্বর গেট দিয়ে ১১ মার্চ দিবাগত রাতে বিমানবন্দরে ঢোকেন। মালামাল পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর রাত ১২টা ২০ মিনিটের দিকে বিমানের বোর্ডিং পাস সংগ্রহ ও মালামাল তোলার জন্য তিনি লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। মেঝেতে হাতব্যাগ রাখার পর হঠাৎ নূর মোহাম্মদ নামের এক ব্যক্তি তাঁকে একটি প্যাকেট নিয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। আবুল বাশার তাঁর অপরিচিত নূর মোহাম্মদের দেওয়া প্যাকেট নিতে অস্বীকার করেন। এ সময় তিনি নিজেকে বাংলাদেশ বিমানের কর্মকর্তা বলে পরিচয় দেন। তিনি বলেন, প্যাকেটটি না নিলে তাঁকে প্লেনে উঠতে দেবেন না।
নূর মোহাম্মদ শেষ পর্যন্ত আবুল বাশারের ব্যাগের চেইন খুলে তাঁর হাতে থাকা প্যাকেটটি সেখানে ঢুকিয়ে দেন। তিনি বলেন, প্যাকেটের ভেতর আচার ও কিছু খাবার আছে। সৌদি আরবে তাঁর ভাই মো. সাঈদ জেদ্দা বিমানবন্দরে এসে প্যাকেটটি নিয়ে যাবেন। ঘড়িতে তখন সময় রাত ১২টা ৫০ মিনিট। আবুল বাশার ভয় পেয়েছিলেন, হাতে সময়ও ছিল কম। তিনি কথা না বাড়িয়ে প্লেনে ওঠেন। জেদ্দা বিমানবন্দরে পৌঁছালে পুলিশ তাঁর ব্যাগ পরীক্ষা করে ইয়াবা উদ্ধার করে।
রাবেয়া শুরুতের পুলিশের কাছে সাধারণ ডায়েরি করতে ব্যর্থ হন যদিও পরবর্তীতে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করলে তারাই সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে আসামিকে শনাক্ত করে। তাঁকে থানায় মামলা করতেও সহযোগিতা করে। বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের এ তৎপরতা ও দায়িত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতা প্রশংসার দাবিদার কিন্তু পুলিশে কাছ থেকে আরো অধিক সহায়তা পাওয়ার অধিকার ছিল রাবেয়ার। এছাড়াও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসকেও ইতোমধ্যে বিষয়টি জানানো হয়েছে বলেও বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের কর্তৃপক্ষ থেকে জানা যায়। কিন্তু তবুও উপযুক্ত প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও জেল খাটতে হচ্ছে একজন নির্দোষ মানুষকে। এর দায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রনালয় ও সরকার এড়াতে পারেন না। এছাড়াও মূল আসামীকে গ্রেফতারের পর চার মাসের মধ্যেই যামিন দিয়ে দেয়া হয়েছে।
অতএব নাগরিকের অধিকার সমুন্নত আছে কিনা সে প্রশ্ন এখানে অমূলক নয়। একটি পরিবার দেনা করে, হাড় ভাঙা কষ্ট করে পরিবার ও দেশের অর্থনীতিক স্বচ্ছলতা অর্জনে একজন ব্যক্তিকে প্রবাসে পাঠায়। তাদের প্রতি কী আমাদের বিশেষ খেয়াল থাকা উচিত নয়? এছাড়াও বিদেশ বিভূইয়ে স্বদেশ যদি অভিভাবকের দায়িত্ব না নেয় তবে নাগরিকের অধিকার কীভাবে সমুন্নত থাকে? তাই অতি দ্রত সম্ভব সরকার ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের এ ধরনর ঘটনাগুলোর নিষ্পত্তি টানা জরুরী। একজন নাগরিকও এ দেশের সম্পদ এবং দেশের বাইরে বিপদে পড়লে দেশের সরকারের অন্যতম কর্তব্য নাগরিকের সহায়তা করা ও তাঁকে রক্ষা করা তাই নাগরিকের অধিকর সমুন্নত রাখুন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.