Ultimate magazine theme for WordPress.

টাকায় বিকছে সরকারি স্কুলের শিক্ষাসনদ

টাকায় নাকি বাঘের চোখও পাওয়া যায়। প্রবাদটি আমাদের দেশে বহু আগ থেকেই প্রচলিত। টাকা দিয়ে বাঘের চোখ পাওয়া যায় কি যায় না সে কথার আক্ষরিক সত্যতা যাচাইয়ের থেকে বরং বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে টাকা দিয়ে এখন সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষাসনদও কিনতে পাওয়া যাচ্ছে। এর আগেও পত্রপত্রিকা ও বিভিন্ন মাধ্যম থেকে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় লুকিয়ে লুকিয়ে জাল শিক্ষাসনদ তৈরির খবর আমরা শুনেছি। কিন্তু সত্যিকারের শিক্ষাসনদ টাকায় বিক্রি হচ্ছে তাও আবার বেসরকারি নয় খোদ সরকারি প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ সরকারি বিদ্যালয় থেকে তখন বিষয়টি সত্যিই দুশ্চিন্তার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে সরকার কর্তৃক পরিক্ষিত উচ্চ জ্ঞান ও মেধাসম্পন্ন শিক্ষক ও শিক্ষিকারা নিয়োগ পান। তারা যদি এ ধরনের কাজে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন তবে তা একটি জাতির জন্য বেশ উদ্বেগজনক।
সামাজিক গণমাধ্যম ও পত্রপত্রিকার থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, বরিশাল নগরীর সিএন্ডবি রোডের ফরাজী ওয়ার্কশপ সংলগ্ন ফজলুল হক রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মালিক সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এইচএম শামীম আহম্মেদ। ওই স্কুল থেকে শিক্ষক শামীম নিজেই সুমন নামে এক ব্যক্তিকে ২০০৯ সালে ৮ম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে এই মর্মে শিক্ষাসনদ ও প্রত্যয়নপত্র দেন। ওই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ইলিয়াস খন্দকারের স্বাক্ষরের জায়গায় নিজেই স্বাক্ষর দিয়ে ২০১০ সালের পহেলা সেপ্টেম্বরের ওই পত্র দুটি প্রদান করা হয়। শিক্ষাসনদ ও প্রত্যয়নপত্র প্রদানে ১০ হাজার টাকা দাবি করা হলেও শেষে সুমনকে ৩ হাজার টাকায় তা দিতে রাজি হয় শিক্ষক শামীম। টাকা দেয়ার বিষয়টি সুমন থেকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে।
যদিও শিক্ষক মহোদয় বিষয়টিকে অস্বীকার করলেও এক্ষেত্রে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এ ধরনের ঘটনা যে একদমই ঘটছে না সে ব্যাপারেও শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই। জাল শিক্ষাসনদের বিষয়টি যদি প্রমাণিত হয় তবে তা দেশ ও জাতির সকল শিক্ষকের জন্য এক দুঃখজনক ঘটনা বলে গৃহিত হবে। কিন্তু এখানে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই যে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার মান নিয়ে যথেষ্ঠ সন্দেহ করার সুযোগ রয়েছে। প্রতি বছরেই বহু বিদ্যালয় থেকে শতভাগ পাশ করে ছাত্র-ছাত্রী বের হচ্ছে কিন্তু তবুও দিনশেষে তাদের মেধা ও মননে প্রশ্ন থেকেই যায়। এছাড়াও অপ্রীতিকর এমন বহু ঘটনাই বিদ্যালয়গুলো থেকে শোনা যাচ্ছে যা বিদ্যালয়ের মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
অতএব সরকারকে সকল বিদ্যালয় বিশেষ করে সরকারি বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিয়ে বিষদভাবে ভাবা প্রয়োজন। যদিও ইতোমধ্যেই সরকার প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের নিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন যা বেশ সময়োপযোগী। তবে সরকারি বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকদের ঔদ্ধত্ব ও অভ্যন্তরীন শিক্ষার মান নিয়ে যে অভিযোগগুলো রয়েছে সেগুলোর বিষয়ে সরকারকে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং তা অবশ্যই যথাযথ পরিকল্পনামাফিক ও দ্রুত।

Leave A Reply

Your email address will not be published.