


সুন্দরবনসংলগ্ন বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় কুমির আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের চালিতাবুনিয়া গ্রামে বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) সকালে তেরাব্যাকা খাল থেকে স্থানীয় এক জেলের জালে ধরা পড়ে একটি কুমিরছানা। পরে বন বিভাগের সহায়তায় ছানাটিকে উদ্ধার করে সুন্দরবনের নদীতে অবমুক্ত করা হয়।
স্থানীয় জেলে শাহীন ফরাজী জানান, তিনি সকালে তেরাব্যাকা খালে মাছ ধরতে গিয়ে জালে কুমিরছানাটিকে আটকা অবস্থায় দেখতে পান। এরপর দ্রুত বন বিভাগকে খবর দিলে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় সেটি উদ্ধার করেন।
গ্রামবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে তেরাব্যাকা খাল ও আশপাশের জলাশয়ে বড় আকারের কুমিরও দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ দাবি করেছেন, প্রায় ১৫ ফুট লম্বা একটি কুমিরকে ওই এলাকায় ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ভয় ও উদ্বেগ বেড়েছে।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে সুন্দরবনে কুমিরের প্রজনন মৌসুম চলছে। এই সময়ে কুমিরছানারা প্রায়ই খাবার বা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে লোকালয়ে চলে আসে। এ কারণে স্থানীয়দের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কুমির দেখা গেলে আতঙ্কিত না হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বন বিভাগকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
শরণখোলা রেঞ্জের স্টেশন কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমান বলেন, “লোকালয় থেকে কুমিরের একটি ছানা উদ্ধার করে সুন্দরবনের নিরাপদ স্থানে অবমুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয়দের নিরাপত্তার জন্য নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।”