


সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া এখন শিক্ষার্থীদের জন্য ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বয়সসীমার কঠোর নীতিমালার ফেরে পড়ে আবেদন করতে পারছে না দেশের বিভিন্ন জেলার শত শত শিক্ষার্থী। আগামী ৫ ডিসেম্বর আবেদনের সময়সীমা শেষ হতে চললেও, সার্ভারের ‘অযোগ্য’ বার্তায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন হাজারো অভিভাবক ও শিক্ষার্থী।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীর বয়স ১০ থেকে ১২ বছরের মধ্যে থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু অনলাইন সার্ভারের যান্ত্রিক বাছ-বিচারে ঝরে পড়ছে অসংখ্য শিশু। জন্মতারিখের হিসেবে মাত্র কয়েক দিন বা মাসের ব্যবধান থাকলেই সিস্টেম তাদের আবেদন গ্রহণ করছে না।
সরেজমিনে বিভিন্ন জেলার কম্পিউটার দোকান ও সাইবার ক্যাফেগুলোতে দেখা গেছে উদ্বেগাকুল অভিভাবকদের দীর্ঘ লাইন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চেষ্টা করেও স্ক্রিনে ভেসে উঠছে সেই একঘেয়ে বার্তা ‘আবেদনটি গ্রহণযোগ্য নয়’। জয়পুরহাটের এক আবেদনকারী জানান, গত কয়েক দিনে তিনি প্রায় দেড়শ শিক্ষার্থীর আবেদন কেবল বয়স–সংক্রান্ত কারণে জমা দিতে পারেননি।
একজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার ছেলের জন্ম ৩ মে ২০১৩। নীতিমালার চেয়ে মাত্র কয়েক মাস এদিক-সেদিক হওয়ায় সিস্টেম আবেদন নিচ্ছে না। এটা কেমন নিয়ম?’
শিক্ষার্থীদের মনেও তৈরি হয়েছে গভীর ক্ষত। আব্দুল্লাহ আল সাদ নামে এক শিক্ষার্থী বলে, ‘সবাই ফরম পূরণ করছে, শুধু আমি পারছি না। আমি কি তবে ভর্তি হতে পারব না?’ আরেক শিক্ষার্থী রুমাইয়া আখতারের আক্ষেপ, ‘মাত্র ১৭ দিন বয়স বেশি হওয়ায় আমার আবেদন নিচ্ছে না। ১৭ দিনের জন্য কি আমার একটা বছর নষ্ট হবে?’ শিক্ষার্থী মো. মেফতাহুলের কান্নাজড়িত প্রশ্ন, ‘জন্মসনদ তো আমি বানাইনি, তাহলে শাস্তি কেন আমাকে পেতে হবে?’
বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরাও এ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। এক প্রধান শিক্ষক জানান, তার বিদ্যালয়ের ১৭ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর আবেদন আটকে গেছে। অপর এক শিক্ষক জানান, তার বিদ্যালয়ের অন্তত ৩০ জন শিক্ষার্থী এই সমস্যার ভুক্তভোগী। তাঁরা সমাধানের জন্য ইতিমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।
এদিকে সমাধান না পেয়ে অনেক অভিভাবক বয়স সংশোধনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা কার্যালয়ে ভিড় করছেন। আবার কেউ কেউ সন্তানের শিক্ষাজীবন বাঁচাতে উচ্চ আদালতে রিট করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রশাসনিক কারণে সৃষ্ট এই জটিলতার দায় শিশুদের ওপর চাপানো অমানবিক। ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে বয়সসীমা শিথিল বা সার্ভার জটিলতা নিরসন না করলে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।