Ultimate magazine theme for WordPress.

শ্রীপুরে বেক্সিমকোর প্যারাসিটামল নাপা’র সংকট

শ্রীপুর প্রতিনিধিঃ
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ফার্মেসিগুলোতে বিশেষ করে বেক্সিমকো কোম্পানির প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষুধের ব্যাপক সংকট দেখা দিয়েছে। ভোক্তারা বিভিন্ন ফার্মেসি ঘুরেও এ জাতীয় ঔষধ পাচ্ছেন না। তবে খুঁজে পেলেও দাম নিচ্ছে এমআরপি থেকে বেশি ঔষুধ ব্যবসায়ীরা।

শ্রীপুর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে যতগুলো বাজার ও গ্রামগঞ্জের আনাচে-কানাচেও বাজারের ফার্মেসি গুলোতেও এই জাতীয় ওষুধগুলো পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ ভোক্তাদের।

উপজেলার কাওরাইদ বাজারের ব্যবসায়ী ফরহাদ ফকির জানান, তার মেয়ে হঠাৎ করে জ্বর শুরু হয়েছে। জ্বর আসলে তিনি নাপা সিরাপ খাওলেই জ্বর কমে যায়। কিন্ত এ সিরাপ কিনতে বাজারের কয়েকটি ফার্মেসিতে ঘুরেছি পাইনি। অবশেষে অন্য কোম্পানির ঔষধ কিনে নিয়ে আসছি।

জৈনা বাজরের শরিফ আহমেদ (এমবিএ পড়ুয়া ছাত্র ) বলেন, আমার মায়ের জন্য নাপা এক্সট্রা কিনতে কয়েকটি ফার্মেসি ঘুরেছি। কোথাও পাইনি। অবশেষে পেয়েও বেশি দামে কিনতে হয়েছে।

জৈনা বাজার ঔষধ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও বাবা মা দোয়া ফার্মেসির স্বত্বাধিকারী মোঃ মোজাম্মেল হক বলেন, এই মৌসুমে ইনফ্লুয়েঞ্জা জ্বর হওয়ায় প্রতি বছরই এসব ট্যাবলেটের চাহিদা বেশি থাকে। এ বছর করোনার কারণে চাহিদা আরও বেড়েছে। কিন্তু কোম্পানির প্রতিনিধিরা নাপা, নাপা এক্সট্রা, নাপা এক্সটেন্ড, নাপা সিরাপসহ এই জাতীয় ঔষুধ যদি ১০বক্স অর্ডার করি তাহলে দেয় ১ বক্স সরবরাহ করে।

শ্রীপুর পৌরসভার মাওনা এলাকার ফল বিক্রেতা শফিকুল ইসলাম বলেন, কয়েক দিন ধরে আমার জ্বর। সেই সঙ্গে শরীর ব্যথা। বাজারের কোনও দোকানে নাপা কিংবা নাপা এক্সটেন্ড পাইনি। পরে ফার্মেসি দোকানির পরামর্শে অন্য ঔষুধ কিনে খাচ্ছি।

বেক্সিমকো কোম্পানির প্রতিনিধি মাওনা এরিয়া ম্যানেজার মুক্তাদেরুল ইসলাম বলেন, উৎপাদনের তুলনায় চাহিদা বেশী মনে করেন যার এক বক্স দরকার সে ১০ বক্স স্টক করে রাখে, তাই কিছুটা সংকট দেখা দিয়েছে, তবে দুই-একদিনের মধ্যেই পুরোপুরি সাপ্লাই দিতে পারবো।আশা করি প্যারাসিটামলের নিয়ে আর কোন সংকট দেখা দিবে না আমাদের।

শ্রীপুর উপজেলা (বিসিডিএস) সভাপতি আঃ ছাত্তার বলেন, নাপা, নাপা এক্সট্র, নাপা এক্সটেন্ড, নাপা সিরাপ এ জাতীয ওষুধগুলো পরিচিত হওয়ায় সাধারণ মানুষ বেশি খোঁজেন। প্রায় ৩ সপ্তাহ ধরে কোম্পানি সাপ্লাই দিতে পারছে না বললেই চলে। এমআরপি থেকে বেশি দামে বিক্রিয বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমআরপি থেকে বেশি দামে বিক্রয় করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ, যদি কেউ করে থাকে তার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এ বিষয় নিয়ে আমি ইতি মধ্যেই (বিসিডিএস) এর উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কথা বলেছি।

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের (ইউএইচএন্ডএফপিও) ডা.প্রণয় কুমার দাস বলেন, কিন্তু হঠাৎ কেন এই সংকট দেখা দিলো তা আমার জানা নেই। তবে এই জাতীয় ওষুধ অন্য কোম্পানির হলেও একই কাজ করবে। তবে আমাদের হাসপাতালে এ জাতীয় অনেক ঔষধ আছে। কারো প্রযোজন হলে হাসপাতাল থেকে নিতে পারবেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.