Ultimate magazine theme for WordPress.

শেরপুরে আলোচিত ৩৫ লক্ষ টাকা ছিনতাইয়ের মামলার রহস্য উন্মোচন

শেরপুর প্রতিনিধি:
গত ২১ মার্চ রবিবার দুপুরে শেরপুর-জামালপুর ব্রহ্মপুত্র সেতুর ইজারাদারদের অংশীদার ব্যবসায়ী নূর হোসেন ও তার ভাতিজা মোটরসাইকেল চালক লিটনকে নিয়ে ৩৫ লক্ষ টাকা ব্যাংকে জমা দেয়ার জন্য আসছিলেন। মোটর সাইকেলে শেরপুরে আসার পথে শহরের মধ্যশেরী এলাকায় ৫ সদস্যের একটি ছিনতাইকারী দল ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে চোখে মরিচের গুড়া ছিটিয়ে টাকার ব্যাগ ছিনতাই করে।

এ ঘটনায় ওই দিনই নূর হোসেন বাদী হয়ে থানায় শেরপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই ঘটনায় ডিবি পুলিশের হাতে মোটরসাইকেল চালক লিটনসহ সন্দেহভাজন ৩ জন গ্রেপ্তার হলেও উদঘাটন হয়নি কোন রহস্য। বিষয়টি শেরপুর জুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পুলিশ দীর্ঘ তদন্ত করে পরবর্তীতে মামলাটি শেরপুর-জামালপুরের দায়িত্বে থাকা পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার দীর্ঘ তদন্ত শেষে পিবিআই ঘটনার জট উন্মোচিত করল। দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারিন ফারজানার আদালতে এই ঘটনার স্বীকারউক্তি মূলক জবান বন্দি দিয়েছে তুষার রঞ্জন দাস রিপন(৪৩) নামের এক ব্যক্তি। তুষার রঞ্জন নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের হিরা লাল দাসের ছেলে এবং আন্তঃজেলা ডাকাত ও ছিনতাইকারী দলের সক্রিয় সদস্য বলে জানিয়েছে পিবিআই। আলোচিত এই ঘটনা নিয়ে শেরপুরের মানুষেরে জিজ্ঞাসার শেষ ছিল না।অবশেষে আজ স্বীকারউক্তির মধ্য দিয়ে এই ঘটনা শেরপুরের মানুষ জেনে বিভিন্ন মহল থেকে সন্তুষ্ট প্রকাশ করা করেছে। পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন) জানায় প্রযুক্তির সহয়তায় এ মাসের ৮ তারিখে তুষারকে তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআইয়ের পরিদর্শক মোখলেছুর রহমান ময়মনসিংহের গাঙ্গিনাপাড় এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।

পিবিআই কর্মকর্তা মুখলেছুর রহমান জানিয়েছে, ওই ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং তার সাথে থাকা অন্যদের নামও প্রকাশ করেছে অভিযুক্ত তুষার রঞ্জন। তুষারের দেওয়া জবানবন্দি মোতাবেক ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান তুষার আন্তঃজেলা ডাকাত ও ছিনতাইকারী দলের সক্রিয় সদস্য এবং তার বিরুদ্ধে নেত্রকোনা ও জামালপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ২৫টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।ত

দন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, ঘটনার আগে বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে অন্তত তিনজন জেল খানায় ছিলেন।জেলের মধ্যে বসে তারা ডাকাতির সিদ্ধান্ত নেয়।জামিন পেয়ে পরপর তিনজন বের হয়ে আসলে তারা এই পরিকল্পনায় আরও তিনজনকে যুক্ত করে। এই ছয়জনের মধ্যে অন্তত তিনজন চাকুরিচ্যুত সাবেক বিডিআর সদস্য। এই ছয়জন মিলে যোগাযোগ হয় এই মামলার বাদীর আশেপাশে ঘনিষ্ঠ এক জনের সাথে। যিনি এই টাকা পয়সা শেরপুর ব্যাংকে আদানপ্রদানের খবর জানতেন। এই খবর দাতার কাছ থেকেই ঘটনার দিনক্ষণ জেনে ফিল্মি ষ্টাইলে এই দূর্ধষ ঘটনা ঘটনা হয়।ঘটনার সময় দুটি মোটর সাইকেল ও একটি প্রাইভেটকার ব্যবহার করা হয়।ঘটনার সাথে শেরপুর সদর উপজেলার অন্তত তিনজন জড়িত থাকার কথা জানা গেছে।

এই অঞ্চলের পিবিআইয়ের দায়েত্বে থাকা পুলিশ সুপার এম এম সালাহ উদ্দীন জানান, বিষয়ের সত্যতা স্বাীকার করে বলেছেন ওই চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হলো। তার দেয়া জবানবন্দি অনুযায়ী, ঘটনায় জড়িত অন্যদেওও আইনের আওতায় আনা হবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.