Ultimate magazine theme for WordPress.

শেরপুরের বন উত্তপ্ত: আতঙ্কে আদিবাসি ও বন বিভাগ

শেরপুর প্রতিনিধি:
শেরপুরের বনাঞ্চল শ্রীবরর্দী উপজেলার বালিজুড়ি গারো খ্রিস্টার পাড়ায় আদিবাসি ও বন বিভাগের মধ্যে উত্তাপ্ত চলছে।আদিবাসিদের দাবি তাদের প্রথাগত ঐতিহ্য অনুসারে বনে তারা চাষবাস করবে। বন বিভাগ চায় বনের জায়গা মুক্ত করতে। এ নিয়ে কয়েকদিন ধরে ওই স্থানে আতঙ্ক বিরাজ করছে উভয় পক্ষেরে মধ্যে। আদিবাসিরা আছে মামলা ও উচ্ছেদ আতঙ্কে। আর বন বিভাগ আছে আদিবাসীদের হামলা আতঙ্কে।

আদিবাসিদের দাবি, তাদের উচ্ছেদ করতেই বন বিভাগ দীর্ঘদিন ধরে অত্যাচার করে আসছে। অপরদিকে বন বিভাগের দাবি পাহাড় কেটে অতিরিক্ত চাষবাস ও বসতবাড়ী করার ফলে পাহাড় সমতল ও ভূমি ধ্বসে যাচ্ছে। সরকারি বাগান ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ ১২ আগষ্ঠ ওই অঞ্চলের সরকারের বন বিভাগের লোকজন অন্যায়ভাবে মুক্তিযোদ্ধা আদিবাসি পরিবারের তিন নারী ও আরও অন্য দুই প্রতিবন্ধি আদিবাসির সবজি ক্ষেত নষ্ট করে দিয়েছে দাবি আদিবাসিদের । এর প্রতিবাদে ২৩ আগস্ট গারো ছাত্র সংগঠন মানববন্ধন করে। পরের দিন ঢাকা থেকে আসেন আদিবাসী নেতৃবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীরা। দুই দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন স্থানীয় প্রশাসনের সাথে বৈঠক শেষ করে সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে আগতরা আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভুমি কমিশনের দাবি করে বনে আদিবাসী জনগোষ্ঠির ঐতিহ্যগত ভুমির অধিকার নিশ্চিত করার আহবান জানান। তারা বলেছেন, বালিজুড়ির ঘটনা আদিবাসী জনগোষ্ঠিকে উচ্ছেদ প্রক্রিয়ারই অংশ। এই ঘটনায় ওই অঞ্চলের রেঞ্জ কর্মকর্তার শাস্তি দাবি করা হয়েছে।

খ্রিস্টার পাড়ায় আদিবাসি নেতারা জানিয়েছেন, আদিকাল থেকে সবজি আবাদ করে আমরা জীবন চালাই। আবাদ ছাড়া কোন কর্ম এখানে নেই। পাহাড়ের আদিবাসিরা উচ্ছেদ ও মামলা হামলার ভয়ে আতঙ্ক আছে বলে নেতারা এর প্রতিকার চেয়েছেন।

ওই অঞ্চলের বন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি এখানে ৫০টি স্থান দখল মুক্ত করা হয়েছে। দখলমুক্ত করতে সরকারের কঠিন নির্দেশনা রয়েছে। বন মন্ত্রনালয়ের সংসদীয় সভায় ক্রাশ কর্মসূচির মাধ্যমে বনের জায়গা দখল মুক্ত করতে সরকার কড়া চিঠি দিয়েছে। সরকারি স্বার্থ রক্ষা করাতেই চাকরি ও জীবনের উপর হুমকি আসছে। বন রক্ষা না করতে পারলে সরকারের শাস্তি। সরকারি স্বার্থ রক্ষা করলে অন্যরা মারমুখি।

এই কর্মকর্তার দাবি, সাম্প্রতিক ঘটনায় বনকর্মীরা ভয়ে চরম আতঙ্কে বনকর্মীরা কেউ বনে যেতে চাচ্ছে না।

এসিএফ প্রান্তুষ চন্দ্র রায় বলেন, প্রতিদিন বনের জায়গা দখল হচ্ছে। কর্মচারিদের সরকারি আইনের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। ঔখানে যা হয়েছে সরকারি নির্দেশ মতই হয়েছে।

অপরদিকে কোন পক্ষেরই আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই বলে জানিয়েছেন শেরপুর জেলা প্রশাসক মো. মোমিনুর রশিদ। তিনি বলেন, আগে বাড়ীঘর ভাঙ্গা যাবে না। তবে বনের জায়গা দখল করলে বন বিভাগ আনইগত ব্যবস্থা নিবেই।

Leave A Reply

Your email address will not be published.