


পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় ১০ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে এক শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের একটি মাদ্রাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার গভীর রাতে মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের শিক্ষক সফিকুল ইসলাম জিসান (২০) ওই ছাত্রকে নিজের কক্ষে ডেকে নেন। সেখানে তিনি শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন চালান বলে অভিযোগ ওঠে। নির্যাতনের পর শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরদিন সকালে সে মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে বাড়িতে গিয়ে পরিবারের কাছে পুরো ঘটনা জানায়।
এ ঘটনার পরপরই এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা অভিযুক্ত শিক্ষককে মাদ্রাসার ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
অভিযুক্ত সফিকুল ইসলাম জিসান বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কাজলাকাঠী গ্রামের বাসিন্দা। জানা গেছে, মাত্র এক সপ্তাহ আগে তিনি ওই মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছিলেন।
ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার জানায়, ঘটনাটি কাউকে না জানাতে শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছিল। শিশুটির মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। একই সঙ্গে স্থানীয়রা মাদ্রাসার সামনে মানববন্ধন করে দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি বলেন, অভিযুক্তের দায় প্রতিষ্ঠান নেবে না এবং শিশুটির চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা হবে। অন্যদিকে রাঙ্গাবালী থানার পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ঘটনাটি এলাকায় গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। শিশুদের নিরাপত্তা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল