Date: December 06, 2025

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / প্রযুক্তি / মঙ্গলে প্রথমবারের মতো বজ্রপাতের শব্দ রেকর্ড করল নাসা - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

মঙ্গলে প্রথমবারের মতো বজ্রপাতের শব্দ রেকর্ড করল নাসা

November 28, 2025 06:44:43 PM   অনলাইন ডেস্ক
মঙ্গলে প্রথমবারের মতো বজ্রপাতের শব্দ রেকর্ড করল নাসা

নাসার পারসিভিয়ারেন্স রোভার লাল গ্রহ মঙ্গলের বুকে প্রথমবারের মতো বিদ্যুৎ চমকানোর ঘটনা রেকর্ড করেছে। এটি একবার-দুবার নয়; গত দুই বছরে অন্তত ৫৫ বার এমন ঘটনা ধরা পড়েছে।

বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, মঙ্গলে এই বিদ্যুতের খেলা ধুলোঝড়ের মাধ্যমে ঘটে। মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলে যখন বিশাল ধুলোঝড় বা ছোট ছোট ঘূর্ণিবাতাস সৃষ্টি হয়, তখন ধুলোর কণাগুলো একে অপরের সঙ্গে ঘষা খায়। এই ঘর্ষণের ফলে স্থির তড়িৎ বা স্ট্যাটিক চার্জ তৈরি হয়। ঠিক যেমন আগ্নেয়গিরির ছাইয়ে বিদ্যুৎ চমকায়, মঙ্গলের ধুলোঝড়ে সেই প্রক্রিয়া ঘটে।

অনেক আগে থেকেই বিজ্ঞানীরা মঙ্গলে এমন ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করেছিলেন, তবে কোনো সরাসরি প্রমাণ ছিল না। এবার পারসিভিয়ারেন্স রোভার সেই প্রমাণ হাতেনাতে ধরেছে।

রোভারটির সুপারক্যাম মাইক্রোফোনের প্রায় ২৮ ঘণ্টার অডিও রেকর্ড বিশ্লেষণ করেছেন ফ্রান্সের ইউনিভার্সিটি অব এইজ-মার্শেই এবং লস আলামস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির গবেষক ব্যাপটিস্ট চাইড ও তার দল। তারা অডিওতে অদ্ভুত এক সংকেত লক্ষ্য করেছেন। প্রথমে মাইক্রোফোনে একটি যান্ত্রিক ব্লিপ শোনা যায়, যা বিদ্যুতের কারণে তৈরি হওয়া চৌম্বকীয় সংকেত। এর পরেই শোনা যায় ক্ষীণ একটি শব্দ, যা ছোট্ট মেঘের গর্জনের মতো। বিজ্ঞানীরা ব্যাখ্যা দিয়েছেন, এটি ঘটে যখন বাতাসে বিদ্যুতের ফলে তাপ সৃষ্টি হয় এবং বাতাস প্রসারিত হয়।

রেকর্ডকৃত ৫৫টির মধ্যে ৭টি ঘটনার শব্দ ও সংকেত স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। নিশ্চিত হওয়ার জন্য বিজ্ঞানীরা পৃথিবীতেও একই ধরনের যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা করেছেন, যা প্রমাণ দিয়েছে এটি সত্যিই মঙ্গলের বজ্রপাত।

মঙ্গলের বজ্রপাত এবং পৃথিবীর বজ্রপাতের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। পৃথিবীতে বজ্রপাতের শক্তি প্রায় ১০০ কোটি জুলের মতো, যা বিশাল ধ্বংস ঘটাতে সক্ষম। তবে মঙ্গলের ধুলোঝড়ের বিদ্যুৎ তুলনামূলকভাবে খুবই দুর্বল, মাত্র কয়েক ন্যানোজুল থেকে মিলিজুল শক্তির। এগুলো বিশাল বাজ নয়, বরং ছোটখাটো স্পার্ক বা স্ফুলিঙ্গের মতো। তবে একটি ঘটনা ছিল প্রায় ৪০ মিলিজুল শক্তির, যা সম্ভবত রোভারের গা ঘেঁষে ধুলো ওড়ার কারণে রোভারের শরীরে চার্জ জমে গিয়ে মাটিতে ডিসচার্জ হয়েছে।

এই আবিষ্কার মঙ্গলের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে মানুষ বা আরও উন্নত রোবট মঙ্গলে গেলে এই ধুলোঝড়ের বৈদ্যুতিক চার্জ যন্ত্রপাতির ক্ষতি করতে পারে। এখন থেকেই বিজ্ঞানীরা সুরক্ষাব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন। এছাড়াও, মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলে বিদ্যুতের কারণে কোন ধরনের রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে তা বোঝার সুযোগ মিলেছে।

নেচার জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণা মঙ্গলের আবহাওয়ার মডেলে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এটি প্রমাণ করে যে লাল গ্রহটি নিস্তেজ বা মরা নয়; ধুলোঝড়ের মাঝে সেখানে বিদ্যুতের চমক সত্যিই উড়ে, যেন আগুনের ছোট্ট ফুলকি।