Ultimate magazine theme for WordPress.

বৃদ্ধি পাচ্ছে শিক্ষিত বেকারদের সংখ্যা

শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন আবশ্যক

দেশে ক্রমান্বয়ে শিক্ষিত বেকারদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) জরিপে উঠে এসেছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলো থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের ৬৬ শতাংশ অর্থাৎ দুই-তৃতীয়াংশই বেকার থাকছেন। ২১ শতাংশ শিক্ষার্থী স্নাতক কিংবা স্নাতকোত্তর শেষ করে চাকরি পান। ৭ শতাংশ শিক্ষার্থী এখনো অন্য কোনো বিষয়ে স্নাতকোত্তর বা কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করছেন কিংবা প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। ৩ শতাংশ স্ব-উদ্যোগে কিছু করছেন। তাহলে এত বিরাট একটি সংখ্যা সত্যিই কিন্তু ভাবনার কারণ।
আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় অনেক উন্নয়ন যোগ হয়েছে এই কথাটি আমরা মানছি কিন্তু এ ধরনের একটি পরিসংখ্যান থেকে এটাও পরিষ্কার হয়ে যায় যে ভয়ানক বেকারত্বের পীড়ায় পীড়িত আমাদের যুবসমাজ। সরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের থেকে এই পরিসংখ্যান পাওয়ার ফলে তথ্যগত ভুলের ব্যাপারটিও এখানে থাকে না। তাহলে এই এত সংখ্যক বেকার যুবক নিয়ে আসলে কী হবে? আর এই বেকারত্বের কারণ কী আমরা খতিয়ে দেখব না?
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, স্নাতক শেষ করে চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রে তাঁরা শিক্ষক কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা পান না। মাত্র ৩ শতাংশ শিক্ষার্থী জানান, তাঁদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরি খোঁজার সুবিধা রয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজগুলোতে এখন মোট শিক্ষার্থী আছেন ২০ লাখের মতো।
এছাড়াও ব্রিটিশ সাময়িকী ইকোনমিস্ট-এর ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের ৪৭ শতাংশ স্নাতকই বেকার, যেখানে ভারতে ৩৩ শতাংশ, পাকিস্তানে ২৮ শতাংশ, নেপালে ২০ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কায় ৭ দশমিক ৮ শতাংশ বেকার রয়েছেন। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশে শিক্ষিত বেকারের হার সবচেয়ে বেশি। আর সমস্যাটি কেবল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নয়। অন্যান্য পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যাঁরা স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়েছেন, তাঁদের চাকরির বাজারও ভালো নয়। অন্যদিকে আমাদের শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি আমদানি করছে। এ জন্য বাংলাদেশকে বিরাট অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করতে হচ্ছে।
স্বাধীন দেশের ভূখ-ের মত রাষ্ট্রীয় বিধি-নিষেধ ও প্রস্তাবনাগুলো যদি স্বাধীন না হয় তখন স্বাধীন দেশে থেকেও পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকতে হয়। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার অনেক কিছুই উন্নতি হয়েছে কিন্তু ফলাফল বলে দিচ্ছে এ সকল উন্নয়নে আসলে কোনো উপকারই হয়নি। এর কারণ হতে পারে আমরা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে না সাজিয়ে ব্রিটিশ প্রণিত শিক্ষাব্যবস্থাকে বজায় রেখেছি। ‘৪৭ এ ব্রিটিশদের থেকে আমরা স্বাধীন হলাম, ’৭১ এ পাকিস্তানীদের থেকে কিন্তু স্বাধীন হয়েও স্বাধীন ব্যবস্থা ৪৮ বছরের আমরা প্রণয়নে সক্ষম হয়নি আর এর দায় এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগই নেই। ভুলে গেলে চলবে না ব্রিটিশরা আমাদের শাসন নয় বরং শোষণ ও ব্যবসার পণ্য হিসেবে ব্যবহার করেছিল। তাদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য তার এমন এক শিক্ষানীতি প্রণয়ন করেছিল যে শিক্ষনীতিতে আসলে কেরানী ছাড়া আর কিছুই হবে না। কিন্তু স্বাধীন দেশে এত কেরানী দিয়ে আমদের কীইবা হবে?
অতএব সরকারকে এখন বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে। স্বাধীন দেশের স্বাধীন শিক্ষানীতি তো সময়ের দাবী। ঢেলে না সাজিয়ে শুধুমাত্র বাহ্যিক রংতুলির কাজে কোনো লাভই হবে না। বরং এ শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষিতরা নিজেদের ‘শিক্ষিত’ হওয়ার কারণেও পিছিয়ে পড়ছে। একজন অশিক্ষিত লোক যেভাবে সহজে যেকোনো কাজ করতে পারে এই তথাকথিত ‘শিক্ষিত’-দের জন্য সেটা অনেক সময়ই লজ্জাজনক। তাই চাহিদামাফিক জনশক্তি বৃদ্ধিতে সচেষ্ট হন তাহলে জনশক্তি আমাদনির প্রয়োজন পড়বে না এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর ব্যবস্থা করুন। একটি বাস্তবজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা এখন বাধ্যতামূলক হয়ে গিয়েছে। রাষ্ট্রের হীতে জনশক্তিকে কাজে লাগানো একদিকে যেমন রাষ্ট্রের মুখ্য দায়িত্ব অপরদিকে জনগণকেও এখন বিষয়টি উপলব্ধি করতে হবে। মস্তক ও দেহের সমন্বয় না হলে রাষ্ট্র নামক শরীর ধ্বসে পরবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.