Ultimate magazine theme for WordPress.

ফিলিস্তিনে আর কত রক্ত ঝরবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক:
পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপনের প্রাক্কালে ইসরাইল কর্তৃক ফিলিস্তিনে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়ে ৩৫ জনকে হত্যা করার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন হেযবুত তওহীদের এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম। সেই সাথে তিনি নিহত ফিলিস্তিনীদের জন্য শোক প্রকাশ করেন।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “গত প্রায় ৭০ বছর থেকে ফিলিস্তিনের মুসলমানদেরকে নিজেদের ভূখণ্ড থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তাদের জায়গা-জমি জোর করে দখল করা হচ্ছে। তাদেরকে উদ্বাস্তু করে দেওয়া হচ্ছে। এই ধরনের গর্হিত কর্মকাণ্ড শুধু যে ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই অন্যায় তা-ই নয়, সেই সাথে জাতিসংঘের ঘোষিত মানবাধিকার চার্টার মোতাবেকও এটি অন্যায় ও বেআইনী। অথচ এই বেআইনি কাজগুলোই চলে আসছে যুগের পর যুগ ধরে। হাজার-হাজার মুসলমানের জীবনকে ধ্বংস করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকেই কার্যত ধ্বংস করে ফেলেছে ইসরাইল। এখন এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে, ফিলিস্তিনের নির্দোষ মুসলিমরা আজকে নিরাপদে এবাদত-বন্দেগীও করতে পারছে না। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো- এত বড় মানবাধিকারের লঙ্ঘন দেখার পরও পশ্চিমা সভ্যতার তথাকথিত মানবাধিকারের ফেরিওয়ালারা ইজরাইলের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা তো নেয়ই না, বরং সুযোগ পেলেই ইজরাইলের পক্ষে সাফাই গাওয়া শুরু করে। ফিলিস্তিনে দীর্ঘদিন যাবৎ যে মানবাধিকারের লঙ্ঘন চালিয়ে আসছে ইসরাইলী সেনারা, তার বিরুদ্ধে যেকোনো মানবতাবাদি শান্তিকামী মানুষমাত্রই ক্ষুব্ধ না হয়ে পারে না।”

হেযবুত তওহীদের এমাম মুসলিম জাতিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘মুসলমানদেরকে বুঝতে হবে, তাদের যে শোচনীয় অবস্থা চলছে তা কিন্তু শুধু ফিলিস্তিনেই নয়। কাশ্মীর, আফগানিস্তান, ইরাক, লেবানন, মিয়ানমার, জিনজিয়াং, এক কথায় সারা পৃথিবীতেই মুসলিমদের দুর্দশা চলছে। নির্যাতিত নিপীড়িত হচ্ছে, প্রাণ হারাচ্ছে, উদ্বাস্তু হচ্ছে মুসলমান। কাজেই মুসলমানদেরকে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়েই ভাবতে হবে এবং কেন তাদের এই শোচনীয় অবস্থার সৃষ্টি হলো সেটাকে মূল্যায়ন করতে হবে।’

তিনি জাতির করণীয় তুলে ধরে বলেন, ‘আমাদের একমাত্র করণীয় হলো- আমাদের নিজেদের মধ্যেকার যত কোন্দল, ফেরকা মাজহাব ও তরিকার দ্বন্দ্ব, দল-উপদলের বিভক্তি ইত্যাদি বন্ধ করতে হবে সবার আগে। তওহীদের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি শক্তিশালী জাতিসত্ত্বা গঠন করতে হবে এবং একজন অবিসংবাদিত নেতৃত্বের অধীনে সমস্ত অন্যায়ের বিরুদ্ধে, অবিচারের বিরুদ্ধে ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করতে হবে। একমাত্র তখনই ফিলিস্তিন সঙ্কটের মত দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। অন্য কোনো পদ্ধতিতে সম্ভব নয়। এই প্রস্তাবনাই হেযবুত তওহীদ দিয়ে চলেছে।’

বিবৃতিতে হেযবুত তওহীদের এমাম চলমান ফিলিস্তিন সঙ্কটে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গন ও আরব বিশ্বের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.