Ultimate magazine theme for WordPress.

ফল কখন কিভাবে খাওয়া উচিত

রেবেকা সুলতানা রুমা।

পুষ্টিবিদ রেবেকা সুলতানা রুমা
বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ, ঋতু অনুযায়ী নানারকম ফলের সমারোহ এই দেশে। ফলে থাকে নানারকম ভিটামিনস ও মিনারেলস। দিনে কমপক্ষে ২ টা ফল খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। ফলের সরল শর্করা ভালোভাবে শোষণ হওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় প্রয়োজন। কিন্তু কখন কী ধরণের ফল খাওয়া উচিত বা ফল খাওয়ার উপযুক্ত সময় কোনটি সে বিষয়ে আমরা অনেকেই হয়তো কিছুটা ভুল করে ফেলি। তাই আসুন জেনে নেই ফল খাওয়ার কিছু সঠিক নিয়ম কানুন-

১. ভোরবেলা অভুক্ত অবস্থায় (যদি এসিডিটি বা গ্যাস এর সমস্যা না হয়) অথবা দুটি আহারের মধ্যবর্তী সময় ( সকাল ১০-১১ টা) হলো ফল গ্রহণের উপযুক্ত সময়। কারণ, এই উভয় অবস্থায় বিভিন্ন প্রকার অ্যানজাইম খাদ্য পরিপাকে দ্রুত কাজ করে। দুই আহারের মধ্যবর্তী সময়ে অথবা অভুক্ত অবস্থায় ফল গ্রহণ করা হলে ফলের সব পুষ্টি উপাদান, আঁশ ও সরল চিনি দেহে সহজে পরিপাক হয় এবং ফল থেকে পাওয়া উপকারিতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়।

২. অভুক্ত অবস্থায় ফল খেলে চুল পাকা, চুল পড়া, চোখের নিচের কালো দাগসহ নানাবিধ সমস্যার দ্রুত সমাধান হয়।

৩. আহারের ঠিক পরেই ফল গ্রহণ করা ঠিক নয়। ফল মুখ থেকে সরাসরি পাকস্থলীতে যাওয়ার পথে অন্য খাবার দিয়ে বাধাপ্রাপ্ত হলে খাবার পচে এসিড তৈরি হয়। এটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। আহারের কমপক্ষে ৩০ মিনিট পর ফল গ্রহণ করা উচিত।

৪. ডায়াবেটিস ও এডিটিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এ সময় হলো আহারের দুই ঘণ্টা পর বা আহারের এক ঘণ্টা আগে।

৫. যাদের খালিপেটে ফল খেলে সমস্যা হয় তাদের কে খাবারের ২ ঘ পর খাওয়া বা মিড মর্নিং এ ফল খাওয়া
উচিত।

৬. বাচ্চাদের কে সকালের নাস্তা খাওয়ানোর পর মধ্য সকাল এ ফল খেতে দেওয়া ভালো।

৭. সাধারণত টক ফল খালিপেটে খেলে এসিডিটি হতে পারে, তাই খাবারের ২ঘ পরে খাওয়াই ভালো।

৮. ওজন কমানোর জন্য ডায়েটকন্ট্রোল এর সময় খাবারের পর ফল না খেয়ে অভুক্ত অবস্হায় ফল খাওয়া ভালো।

৯. মিডমর্নিং ছাড়াও বিকালবেলা নাস্তা খাওয়ার অভ্যাস না থাকলে ফল খাওয়া যায় বা যারা চিনি তেল এর নাস্তা খাওয়া পছন্দ করেন না তারাও ফল রাখতে পারেন বিকালের নাস্তা হিসেবে।

বাজার থেকে ফল এনে ভালো করে ধুয়ে পানিতে ভিজিয়ে রাখবেন ১ঘণ্টা সাথে দিতে পারেন ভিনিগার১/ ২ চামুচ কারন ফরমালিন পানিতে দ্রবীভুত।

– সবসময় আধাপাকা ফল কিনে বাসায় পাকিয়ে খাওয়া ভালো।
– পরিমান এ অল্প ফল কিনুন কিন্তু নানা রকম এর ফল কিনুন (টক,মিস্টি, পানসে)। সব ফলের আলাদা আলাদা পুষ্টিগুন আছে।
– রসালো ফল এ-র পাশাপাশি শুকনো ফল খেজুর, কিসমিস রাখুন।
– ফলের সাথে দই এর মিশিয়ে খেলে পুষ্টিগুনযেমন বাড়ে হজমের উপযোগী হয়।

একটা বয়সের পর কতকিছু মানতে হয়, কত ফল কিছুকিছু রোগে খাওয়া যায় না, তাই এখন থেকে আপনার সন্তানকে ফল খাওয়ানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন।

লেখক: ক্লিনিক্যাল ডায়েটিশিয়ান, এস আই বি এল ফাউন্ডেশন হাসপাতাল, ঢাকা।

Leave A Reply

Your email address will not be published.