Date: May 15, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / সারাদেশ / ময়মনসিংহ / প্লাবিত ২০ গ্রাম, পানির নিচে বোরো ক্ষেত - দুশ্চিন্তায় হাজারো কৃষক - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

প্লাবিত ২০ গ্রাম, পানির নিচে বোরো ক্ষেত - দুশ্চিন্তায় হাজারো কৃষক

May 15, 2026 09:33:26 AM   অনলাইন ডেস্ক
প্লাবিত ২০ গ্রাম, পানির নিচে বোরো ক্ষেত - দুশ্চিন্তায় হাজারো কৃষক

টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া উপজেলায়। নদীর বাঁধ ভেঙে অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে পানি, তলিয়ে গেছে পাকা বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসলি জমি। হঠাৎ সৃষ্ট এই বন্যা পরিস্থিতিতে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কৃষকদের আশঙ্কা, দ্রুত পানি না নামলে কয়েক মাসের পরিশ্রম এক রাতেই নষ্ট হয়ে যাবে।

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে বুধবার দিনভর ময়মনসিংহের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় হালুয়াঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো। বুধবার (১৩ মে) রাত ১০টা পর্যন্ত উপজেলার মাজরাকুড়া, কুমারগাতী, আচকীপাড়া, তেলীখালী, কড়ইতলী, মহিষলেটি, গোবরাকুড়া, কালিয়ানিকান্দা, মনিকুড়া, রাংরাপাড়া, বুড়াঘাট, বোয়ালমারা, ডুমনীকুড়া, কাতলমারী, সূর্যপুর, সুমনিয়াপাড়া ও মহাজনীকান্দাসহ অন্তত ২০টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে যায়।

শুধু হালুয়াঘাটই নয়, পাশের ধোবাউড়া উপজেলাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। দক্ষিণ মাইজপাড়া ও গামারীতলা ইউনিয়নের কামালপুর, রায়পুর, মেকিয়ারকান্দা এবং দক্ষিণ ডোমঘাটাসহ কয়েকটি এলাকায় পানি ঢুকে পড়ে। স্থানীয়দের অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতের মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা এলাকায় মঙ্গলবার রাত থেকেই টানা ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়। সেই সঙ্গে পাহাড়ি ঢল নেমে আসায় নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। অতিরিক্ত পানির চাপে বুধবার সকালে হালুয়াঘাট উপজেলার ভূবনকুড়া ইউনিয়নের মাজরাকুড়া এলাকায় মেনংছড়া নদীর বাঁধ ভেঙে যায়। একই সময়ে গাজীরভিটা ইউনিয়নের মধ্য বোয়ালমারা এলাকায় বুড়াঘাট নদীর বাঁধও ভেঙে পড়ে। এতে আশপাশের নিম্নাঞ্চলে মুহূর্তের মধ্যে পানি ঢুকে পড়ে এবং বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়।

বিকেলের দিকে ধোবাউড়া উপজেলার গামারীতলা ইউনিয়নের দক্ষিণ গৌরিপুর এলাকায় নেতাই নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে গেলে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। নতুন নতুন এলাকা পানির নিচে চলে যেতে থাকে। স্থানীয়রা জানান, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পানি এত দ্রুত বেড়েছে যে অনেকেই ঘর থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়ার সময়ও পাননি।

সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা। কারণ ঠিক এই সময়টাতেই মাঠে পেকে উঠেছিল বোরো ধান। হালুয়াঘাট উপজেলার বোয়ালমারা গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, ভারী বৃষ্টির পর থেকেই তারা আশঙ্কায় ছিলেন। শেষ পর্যন্ত বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে পুরো জমি তলিয়ে গেছে। দ্রুত পানি না নামলে ধান পচে নষ্ট হয়ে যাবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ধোবাউড়ার কামালপুর গ্রামের কৃষক আসাদ মিয়া বলেন, তিন কাটা জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছিলেন। কিন্তু বাঁধ ভেঙে সেই জমিও পানির নিচে চলে গেছে। পানি ধীরে ধীরে লোকালয়ের দিকেও এগোচ্ছে বলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

দুই উপজেলার কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, হালুয়াঘাটেই সবচেয়ে বেশি ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চলতি মৌসুমে উপজেলাটিতে ২২ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছিল। এর মধ্যে অন্তত ৭০ হেক্টর জমির ধান ইতোমধ্যে পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ধোবাউড়ার কয়েকটি গ্রামের ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ জানান, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে দুটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে এবং দুটি কাঁচা রাস্তা ভেঙে গেছে। তবে বৃষ্টি কমে গেলে দ্রুত পানি নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, গামারীতলা, ঘোষগাঁও ও দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণে কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের উপপরিচালক মো. এনামুল হক জানান, এখনো ব্যাপক ফসলহানির চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।