


পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় দুই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে দাদন ব্যবসা, চড়া সুদে ঋণ প্রদান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযুক্ত শিক্ষকরা হলেন ৭০ নং পাটিকেলবাড়ি বিশাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মো. মিজানুর রহমান এবং ১১৯ নং সারেংকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোঃ আল-আমিন। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা শিক্ষা অফিস তদন্ত শুরু করেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা-১৯৭৯ লঙ্ঘন করে ২০২০ সাল থেকে এই দুই শিক্ষক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা ‘আলকিরহাট ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি’ (রেজি: নং-৫৯ পিডি) -এর সভাপতি, সম্পাদক ও সদস্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সমিতির আড়ালে তারা দীর্ঘদিন ধরে চড়া সুদে দাদন ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। ঋণের বিপরীতে চেক ও স্ট্যাম্প জামানত রেখে তারা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করছেন বলে ভুক্তভোগীরা জানান। তাদের সুদের চাপে অনেকে সর্বস্ব হারিয়ে বাড়িঘর বিক্রি করতে, এমনকি এলাকা ছাড়তেও বাধ্য হয়েছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, শিক্ষক মো. আল-আমিন নিজের শিক্ষক পরিচয় গোপন করে নিজেকে ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়ে আর্থিক লেনদেন করছেন। এছাড়া এই দুই শিক্ষক ও তাদের স্বজনরা স্থানীয় এক ব্যক্তির সম্মানহানির উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
নেছারাবাদ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খোন্দকার জসিম আহমেদ বলেন, “দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত শেষ করে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।