


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দাড়ি রাখার, মাথায় টুপি পড়ার কিংবা ধর্মীয় সাজসজ্জা করা একেবারেই যথেষ্ট নয়; যারা এই বাহ্যিক ধর্মীয় চেহারার আড়ালে শুধু বেহেশতের স্বপ্ন দেখায়, তারা প্রকৃত ইসলাম চায় না।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাতে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ফাসিয়াখালী ইউনিয়নে আয়োজিত আলেম ও উলামাদের মতবিনিময় সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, সুবিধাভোগী কিছু রাজনৈতিক নেতারা বিশেষ করে নারী সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ধর্মের নামে বিভ্রান্তি তৈরি করে ভোট প্রার্থনা করছেন, যা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। সালাহউদ্দিন আহমদ প্রশ্ন তোলেন, “যদি শুধু ভোট দিয়ে জন্নাত পাওয়া যেত, তাহলে পড়াশোনা করা বা ধর্ম মানার কি প্রয়োজন থাকত?” তিনি বলেন, দেশের প্রায় ৯২ শতাংশ মুসলমান ইসলাম ধর্মের উপর বিশ্বাস করে এবং প্রকৃত ইসলামের মূলনীতি অনুসরণ করতে চায়।
উক্ত সভায় আলেম উলামাদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, আগে রাষ্ট্র থেকে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খতিবরা কোনও ধরনের স্বীকৃতি বা ভাতা পেতেন না। তবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দলই প্রথমবার আলেম সমাজকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করার ঘোষণা দিয়েছে, যার মাধ্যমে তাদের জন্য একটি নির্দিষ্ট ভাতা দেওয়া হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শুধু মুসলিম আলেমদেরই নয়, অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয়ে যারা কাজ করেন, তাদেরকেও রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি ও অর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ সতর্কবার্তা দিয়েছেন, যারা শুধু ইসলামের দোহাই দিয়ে ধর্মকে বিক্রি করে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করার চেষ্টা করছেন, তারা প্রকৃত ইসলামের উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত। তিনি আলেম ও উলামাদের আহ্বান জানান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কোনও অশুভ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আত্মনিবেদন করা উচিত নয়।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন মুফতি এনামুল হক। উপস্থিত ছিলেন আশরাফুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম আব্দুল মান্নান, চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক, সাধারণ সম্পাদক মোবারক আলী, ফাসিয়াখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কুতুবউদ্দিনসহ স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ। সভার আলোচনায় ধর্ম ও রাজনীতি, আলেম সমাজের মর্যাদা এবং রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়।