Date: December 06, 2025

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / বিনোদন / তারকাদের ছবিতে ভেসে ওঠা বিভিন্ন সংখ্যা, জানা গেল কারণ - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

তারকাদের ছবিতে ভেসে ওঠা বিভিন্ন সংখ্যা, জানা গেল কারণ

November 27, 2025 06:37:22 PM   বিনোদন ডেস্ক
তারকাদের ছবিতে ভেসে ওঠা বিভিন্ন সংখ্যা, জানা গেল কারণ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গত কয়েক দিন ধরে দেশের জনপ্রিয় নারী তারকাদের ছবিতে হঠাৎ করে ভেসে ওঠা বিভিন্ন সংখ্যা নেটিজেনদের তীব্র কৌতূহল তৈরি করেছে। কারও ছবিতে ‘৯’, কারও ‘২৪’, আবার কারও ছবিতে ‘১০০০’—এভাবে একেকজন তারকা নিজেদের পোস্টে অদ্ভুত সব সংখ্যা ব্যবহার করছিলেন। বহুদিনের জল্পনা-কল্পনার পর অবশেষে জানা গেছে এই সংখ্যাগুলোর পেছনের প্রকৃত কারণ।

আসলে ডিজিটাল সহিংসতা ও সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করতে তারকারা যুক্ত হয়েছেন ‘মাই নম্বর, মাই স্টোরি’ নামে একটি প্রতিবাদী আন্দোলনে। এই উদ্যোগের মূল ভাবনা হলো—প্রতিটি নারীর অনলাইন অভিজ্ঞতার অন্ধকার দিকটিকে সংখ্যার মাধ্যমে দৃশ্যমান করা। তারকারা তাদের ছবিতে যে সংখ্যা লিখছেন, তা নির্দেশ করছে—গড়ে দিনে কতবার তারা অনলাইনে হয়রানির মুখোমুখি হন।

আন্দোলনটির সূচনা হয় ২৫ নভেম্বর নুসরাত ইমরোজ তিশার মাধ্যমে। নিজের ছবি প্রকাশ করে তিশা জানান, প্রতিদিন অন্তত ৯ বার তিনি অনলাইনে বুলিংয়ের শিকার হন। তিনি বলেন, একটি সংখ্যা মানুষের কাছে সামান্য মনে হতে পারে, কিন্তু ওই সংখ্যার পেছনে লুকিয়ে থাকে তাঁর সহ্য করা বাস্তব যন্ত্রণা। তাই সবাইকে নিজেদের গল্প জোরালোভাবে বলতে আহ্বান জানান তিনি।

তিশার উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হয়ে রুনা খান জানান তিনি দিনে প্রায় ২৪ বার অনলাইনে হয়রানির মুখোমুখি হন। শবনম ফারিয়া প্রকাশ করেন আরও ভয়াবহ একটি সংখ্যা—‘১০০০’। দিঘী জানান তাঁর সংখ্যা ‘৩’, মৌসুমী হামিদ ‘৭২’, পুতুল ‘৯’ এবং ভাবনা লিখেছেন ‘৯৯ প্লাস’; অর্থাৎ প্রতিদিন গণনায় না ধরা যায় এমন বিপুল পরিমাণ হয়রানির অভিজ্ঞতা তাঁর।

এই বিষয়ে গণমাধ্যমকে রুনা খান বলেন, শুধু তারকারা নয়—সামাজিকমাধ্যমে যেকোনো নারীই প্রতিনিয়ত কোনো না কোনোভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। গত দশ বছরে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার যত দ্রুত বেড়েছে, মানুষের আচরণবিধি ও দায়িত্বশীলতা সে গতিতে গড়ে ওঠেনি। তাই এমন আন্দোলনের প্রয়োজন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে এই সম্মিলিত অবস্থান শুধু তারকাদের দৈনন্দিন বাস্তবতাই তুলে ধরে না, বরং পুরো সমাজকে ভাবিয়ে তোলে—অনলাইন জগৎ কতটা নিরাপদ, বিশেষ করে নারীদের জন্য।