Ultimate magazine theme for WordPress.

জুনের মধ্যেই ডজনখানেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আসছে নতুন উপাচার্য

দেশের বেশ কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে নিয়মিত উপাচার্য নেই। সেগুলোর কোথাও পূর্ণকালীন উপাচার্যের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে, আবার কোথাও পরবর্তী সিনিয়র কর্মকর্তা কিংবা সিনিয়র ডিন বা অধ্যাপক ভারপ্রাপ্ত হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। চলতি মাসেই শূন্য আরো দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদ। আর একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন পর্যন্ত উপাচার্য নিয়োগই দেয়া হয়নি। তবে নিয়োগ পেতে সরকারপন্থি বেশকিছু অধ্যাপক লবিং-তদবির করছেন। তাদের কেউ স্থানীয় রাজনৈতিক আবার কেউ জাতীয় নেতাদের মাধ্যমে নিজের নাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত প্যানেলে অন্তর্ভুক্তির চেষ্টা চালাচ্ছেন। আবার কেউ শিক্ষামন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজন কিংবা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র ও প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন বলে জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য শূন্য। সেগুলোর মধ্যে প্রথমটি গত ৪ জানুয়ারি, দ্বিতীয়টি ২৯ জানুয়ারি আর তৃতীয়টি ৩১ জানুয়ারি শূন্য হয়। ওই তালিকায় সর্বশেষ যুক্ত হয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। বিদায়ি উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ গত বৃহস্পতিবারই শেষ কর্মদিবস কাটান। এখনো সেখানে কাউকে ভারপ্রাপ্ত দেয়া হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে উপ-উপাচার্য কাজ চালিয়ে নেবেন বলে। আর পরবর্তী উপাচার্য হতে আগ্রহীদের একজনও তিনি। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজনের নাম আলোচিত হচ্ছে।

তাছাড়া চলতি মাসে খালি হবে আরো দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদ। তার মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের মেয়াদ শেষ হবে ২০ মার্চ। আর আগামী ২৩ মার্চ শূন্য হবে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) উপাচার্যের পদ। একই দিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমএমএমইউ) উপাচার্য, ৬ মে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ জুন, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯ মে, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩ জুন এবং রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ জুন উপাচার্যের মেয়াদ শেষ হবে। আর অনুপস্থিতি এবং নানা কেলেঙ্কারিতে জড়িত হওয়ার দায়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে মাসখানেক আগে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছিল। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সূত্র জানায়, উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ নিয়োগের লক্ষ্যে প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিনিয়র অধ্যাপকদের ১০ শতাংশকে নিয়ে তালিকা করা আছে। উপাচার্য নিয়োগে ওই তালিকা বিবেচনায় আছে। তার বাইরে বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন কয়েকজন অধ্যাপক আছেন যারা তদবির না করলেও আলোচনায় রয়েছেন। নিয়োগপ্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্তও দেখা হচ্ছে।

এদিকে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ জানান, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি, প্রোভিসি ও কোষাধ্যক্ষের শূন্যপদ পূরণে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ শতাংশ সিনিয়র অধ্যাপককে নিয়ে গত বছর একটি পুল গঠন করা হয়েছে। তবে কেবল সিনিয়রিটির ভিত্তিতে উপাচার্যের দায়িত্ব দেয়া ঠিক নয়। ওই পদে দায়িত্ব পালন করতে হলের প্রভোস্ট, ডিন, বিভাগের চেয়ারম্যান ইত্যাদি পদে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। তাছাড়া চিন্তা-চেতনার দিকটিও দেখা হয়। কেননা ক্যাম্পাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন ধরনের জনবল চালাতে হয়। তাই ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট ক্যাপাবিলিটি, অতীত রেকর্ড, অভিজ্ঞতা এবং একাডেমিক এক্সিলেন্স বিশেষ করে সততার দিকটি দেখা জরুরি। নইলে বিশ্ববিদ্যালয় চালানোর পরিবর্তে দুর্নাম বয়ে আনবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়েও অচলাবস্থা তৈরির শঙ্কা থাকে।

অন্যদিকে একই প্রসঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন জানান, উপাচার্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী এবং একাডেমিক লিডার। তাই কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ওই নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকার অভিজ্ঞতার পাশাপাশি একাডেমিক এক্সিলেন্স বিবেচনা করে থাকে। যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ওই পদ শূন্য আছে, সেখানে অচিরেই নিয়োগের কাজ শেষ হবে। ওই সংক্রান্ত প্রক্রিয়া চলছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.