


সিরাজগঞ্জে ৯ বছরের আপন শিশুকন্যাকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে বাবা আক্তার হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও মেয়াদের দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক এই রায় ঘোষণা করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আদালত এই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির রায় দেন।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, সাজাপ্রাপ্ত আক্তার হোসেন জেলার সলঙ্গা থানার বাসুদেবকোল গ্রামের বাসিন্দা। পারিবারিক কলহের জেরে কয়েক বছর আগেই আক্তার হোসেনের সাথে তার স্ত্রীর বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। মা আলাদা থাকায় শিশুটি তার বাবার কাছেই বড় হচ্ছিল।
ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের ১২ এপ্রিল। সেদিন বিকেলে শিশুটি বাড়ির পাশের স্কুল মাঠে খেলা করছিল। খেলার মাঠ থেকে নিজের মেয়েকে ডেকে নিয়ে পাশের একটি নির্জন বাঁশঝাড়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় আক্তার হোসেন। এ সময় প্রতিবেশীরা বিষয়টি দেখে ফেললে লম্পট বাবা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
এই পৈশাচিক ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিশুর মামা বাদী হয়ে সলঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে আক্তার হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ব্যক্তি হাজতে ছিলেন। মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করলে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুর ২টার দিকে সিরাজগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক বেগম সালমা খাতুন আসামির উপস্থিতিতে জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় পাঠ করেন।
সাজা: ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড।
জরিমানা: ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড।
বর্তমান অবস্থা: রায় ঘোষণার পরপরই কঠোর নিরাপত্তায় সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
খুব অল্প সময়ের মধ্যে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ করে এই রায় প্রদান করায় এলাকায় স্বস্তি বিরাজ করছে। বাবার মতো পবিত্র সম্পর্কের আড়ালে এমন ঘৃণ্য অপরাধের বিরুদ্ধে আদালতের এই কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতে শিশু সুরক্ষা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।