


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চলতি বছরের শুরুতে ৩০০ আসনের জন্য দলীয় প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে নির্বাচনি মাঠে আগেভাগেই অবস্থান নিতে সক্ষম হয়েছে। কেন্দ্র থেকে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড এবং ভোটকেন্দ্রভিত্তিক নির্বাচনি কমিটিও ইতোমধ্যেই গঠন করা হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এবার তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে, যাতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা যায়। বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, ডাকসু, চাকসু, রাকসু, জাকসুতে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সফলতার পর জাতীয় নির্বাচনে দলটি একইভাবে ইনক্লুসিভ প্রার্থী তালিকা দিতে চায়।
জামায়াতের প্রার্থী তালিকায় সবচেয়ে চোখে পড়ার বিষয় হলো পাঁচজন বিশিষ্ট নারী নেত্রী এবং পাঁচজন অমুসলিমের অন্তর্ভুক্তি। কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপিকা নুরুন্নিসা সিদ্দিকার নাম আলোচনায় এসেছে। এছাড়া বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ ঢাকা-১৮ আসন থেকে প্রার্থী হতে পারেন বলে টকশোতে আলোচনা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য সাবেক এমপি ডা. আমিনা রহমান, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ মহিলা বিভাগের সাবেক এমপি শাহান আরা বেগম এবং জামায়াতের মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি ব্যারিস্টার সাবিকুন্নাহারের নামও আলোচনায় রয়েছে। তাদের আসন এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
একই সঙ্গে জামায়াত অমুসলিম ও উপজাতি প্রার্থীদের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরো সমানতুল্য করতে চায়। হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্তত পাঁচজন এবং একজন উপজাতিকে মনোনয়ন দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আলোচনায় এসেছে খুলনা-১ আসনের কৃষ্ণনন্দী, মাগুরা-১ ও মাগুরা-২ আসনের প্রখ্যাত চিকিৎসক ডা. শুশান্ত এবং পরেশকান্তি সাহা, পঞ্চগড়-১ আসনের বিশিষ্ট শিক্ষক ও সমাজসেবক তপনমোহন চক্রবর্তী এবং জাতীয় হিন্দু মহাজোটের সাধারণ সম্পাদক গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জোবায়ের জানান, আলোচনায় থাকা নামগুলো চূড়ান্ত নয়। দলটি অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রার্থী তালিকা তৈরির চেষ্টা করছে এবং যোগ্যতা, জনপ্রিয়তা এবং পাঁচ দফা দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেওয়াদের বিষয় বিবেচনা করে মনোনয়ন দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
দলের নির্বাচনি প্রস্তুতি শক্তিশালী করতে একটি আট সদস্যের কমিটি কাজ করছে। কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ। বাকি সদস্যরা হলেন নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহম্মদ তাহের, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুর রব, মোহাম্মদ মোবারক হোসাইন এবং ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ইয়াসিন আরাফাত। এই কমিটি প্রার্থী চূড়ান্ত করতে শরিক দলের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করছে। শিগগিরই জামায়াত ও তাদের সমর্থিত জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হবে, যাতে থাকতে পারে বড় ধরনের চমক।