Ultimate magazine theme for WordPress.

গণমাধ্যম জগতের এক নীরব বিপ্লবী

এস এম সামসুল হুদা
একজন মানুষ, একটি বিপ্লব। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এক মহান পুরুষ। তাঁকে একাধারে একজন কৃষি, গবাদি পশু ও মৎস্য খামার উদ্যোক্তা, বহু বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা, সমাজ সংস্কারক, ধর্মের নামে চলমান অধর্মের মূল উৎপাটনকারী, ইসলামের প্রকৃত শিক্ষার একজন প্রচারক, তুখোড় বক্তা, একটি রেনেসাঁর জন্মদাতা, একটি সত্যনিষ্ঠ জাতির কা-ারী, একজন গণমাধ্যম পথিকৃৎ, কত কী অভিধায় অভিহিত করা যায় তাঁকে। আপনারা নিশ্চয় ইতোমধ্যে আঁচ করতে পেরেছেন আমি কার কথা বলছি। হ্যাঁ। তিনি হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম। এ নামে বাংলার মানুষ তাকে সহজেই চিনে। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষসহ আপামর জনতার কাছে তিনি ইসলাম ধর্মের একজন প্রচারক ও সংস্কারক হিসেবে, বলিষ্ঠ বক্তা হিসাবে সমধিক পরিচিত। কিন্তু তিনি যে একজন গণমাধ্যম উদ্যোক্তা এ কথাটা কয়জনে জানে।
তিনি গণমাধ্যমের জগতে রীতিমত নীরব বিপ্লব ঘটিয়ে দিয়েছেন। গণমাধ্যমে প্রচলিত, প্রতিষ্ঠিত সিন্ডিকেট ভেঙ্গে চুরমার করে দিয়েছেন। তাঁর লেখায়, তাঁর দিকনির্দেশনায় একটি নয়, দু-দুটি পত্রিকা বজ্রের গতিতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সারা বাংলাদেশ। সেই গল্পটি নিয়েই শুধু আলোচনা করব আজ।
১৯৯৩ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে বাংলাদেশের ইতিহাসের রেকর্ড ভেঙে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন। এরপর সাফল্যের সাথে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় ঈর্ষণীয় ভালো ফলাফল করার পর ভালো একটা চাকরি নিয়ে নিশ্চিন্ত নির্ভেজাল জীবন শুরু করতে পারতেন তিনি।
কিন্তু একজন আপাদমস্তক বিপ্লবী কি এমন আত্মকেন্দ্রীক জীবন বেছে নিতে পারেন? কখনো নয়। তার মন কেঁদে উঠেছে মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দেখে। ধর্মের নামে চলা অধর্মের বিরুদ্ধে তিনি হয়েছেন সোচ্চার। ঢাকার রাজপথের মোড়ে মোড়ে মানুষ জড়ো করে মাইক লাগিয়ে তিনি সকল রকম অন্যায় অনাচারের বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করে তোলার চেষ্টা করেছেন, মানুষকে তার আপন পরিচয় ও ঠিকানা চিনিয়ে দেওয়ার ব্রত গ্রহণ করেছেন। মাইক্রোফোনের পাশাপাশি কলম হাতে তুলে নিয়েছিলেন সেই তখন থেকেই। তার অনেক বিপ্লবী লেখা, সমাজে চলমান ও ধর্মের বিরুদ্ধে রচিত প্রবন্ধ অনেক পত্রিকার সম্পাদকীয় প্রকাশ করতে সম্মত হন নাই।
এমতাবস্থায় অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে তিনি পত্রিকা প্রকাশের উদ্যোগ নেন। পত্রিকা প্রকাশ তো আর মুখের কথা নয়, অনেক সময়ের ব্যাপারও। এরইমধ্যে দৈনিক দেশেরপত্রের প্রকাশক ও সম্পাদক এগিয়ে এলো তার সকল লেখা প্রকাশ করার জন্য। এই পত্রিকাটির সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকে তার প্রত্যক্ষ পরামর্শে পরিচালনায় অলিখিত সম্পাদনায় ২০১২ সালে প্রকাশিত হতে শুরু করল। অল্প কিছুদিনের মধ্যে পত্রিকাটির প্রচারসংখ্যা অবিশ্বাস্যভাবে প্রতিদিন দেড় লক্ষ উন্নীত হল। যা এই ডিজিটাল যুগে একটি অসম্ভব ব্যাপার। সারাদেশে লক্ষ লক্ষ পাঠক তৈরি হলো। প্রতিটা দিন তিনি অসম্ভব স্নেহ ভালোবাসা দিয়ে দেশেরপত্রের সকল সংবাদকর্মীকে হাতে-কলমে শিক্ষা দিয়ে দক্ষ সাংবাদিক হিসেবে গড়ে তোলেন।

তার হাতের ছোঁয়ায় দৈনিক দেশেরপত্রের সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে ‘দৈনিক নিউজ’ -এর প্রকাশক ও সম্পাদক পত্রিকাটি তার হাতে সোপর্দ করার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। তিনিও সম্মত হন। শুরু করলেন একই সাথে দুটি দৈনিক পত্রিকার সম্পাদনা ও প্রকাশনা। তার ক্ষুরধার লেখনী ও দিকনির্দেশনায় অল্প দিনের ব্যবধানে প্রচারসংখ্যা এক লক্ষ ছাড়িয়ে গেল। দেশের বাঘা বাঘা সাংবাদিকদের সম্পাদনায় প্রকাশিত পত্রিকাকে প্রচার সংখ্যায় পেছনে ফেলে দিল তার দিকনির্দেশনায় পরিচালিত হতে থাকে পত্রিকা দুটি। হইচই পড়ে গেল সারা দেশে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার, তিনি এমন ধাঁচের লেখার প্রবর্তন করলেন যে পত্রিকা দুটি নতুন নতুন পাঠক শ্রেণি তৈরি করতে সক্ষম হল। যারা কখনও পয়সা দিয়ে পত্রিকা কিনে পড়ার চিন্তা করত না, তারা এই পত্রিকা খুঁজে খুঁজে কিনে পড়তে অভ্যস্ত হয়ে গেল।
তার আরেকটি বিপ্লবী পদক্ষেপ, বিশেষ বিশেষ দিনে যখন কোন পত্রিকা প্রকাশিত হয় না, যেদিনগুলোতে পত্রিকা প্রকাশের চেষ্টা করেও অনেক মিডিয়া হাউজও ব্যর্থ হয়েছে, যেমন, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম ভাই একদিন আমাকে বললেন, “আমি ঈদের বন্ধের দিনগুলোতে পত্রিকা প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। আমার হাউজের সাংবাদিক, মুদ্রণালয়ে কর্মরত সকলকে সম্মত করিয়েছিলাম কিন্তু হকারদের জন্য পারলাম না। ঈদের ছুটিতে হকাররা বাড়িতে যাবেই। পত্রিকা বিক্রয় করবে না।”
বাংলাদেশের সংবাদপত্র সাংবাদিক জগতের দিকপাল নাঈমুল ইসলাম খান, আমাদের সকলের প্রিয় নাঈম ভাই একবার উদ্যোগী হয়ে ঈদের দিন আমাদের অর্থনীতি প্রকাশ করেছিলেন। মৌসুমী কিছু হকার দিয়ে পত্রিকা বিক্রয়ের চেষ্টাও করেছিলেন। কিন্তু সেই একবারই। আর এই চেষ্টা করেন নাই। সংবাদপত্রে নতুন নতুন আইডিয়া ও নতুন ধারার প্রবর্তক হিসেবে খ্যাত নাঈম ভাই এক্ষেত্রে আর বেশি এগোতে পারেননি একথা বললে অত্যুক্তি হবে না।
কিন্তু গণমাধ্যমের মহীরুহ হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম অসাধ্য সাধন করেছেন। তিনি দুই ঈদের বন্ধের ছয় দিনই না কেবল, শবে বরাত, শবে কদর, পহেলা বৈশাখ, মে দিবস অর্থাৎ সবগুলো বন্ধের দিনে তার পরিচালিত পত্রিকা প্রকাশ অব্যাহত রেখেছেন।
তার মনে হল, বন্ধের দিনগুলোতে মানুষের জীবনে সুখ দুখ, হাসি কান্না, ঘটনা-দুর্ঘটনাসহ দেশে অনেক কিছুই ঘটে যা সংবাদপত্র পাঠকের জানার অধিকার আছে। টেলিভিশন, রেডিও, অধনা সংযোজিত অনলাইন পোর্টালের দর্শক শ্রোতা পাঠকগণ সকল সংবাদই পান, সেই প্রতিষ্ঠানগুলো চালু থাকে, তাহলে সংবাদপত্রের পাঠকেরা কেন বঞ্চিত হবে। তিনি উদ্যোগ নিলেন বন্ধের দিনগুলোতে পত্রিকা প্রকাশের। এক ঝাঁককর্মীকে উজ্জীবিত করলেন পত্রিকার বিক্রয়ের জন্য। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, প্রকৌশলী, চিকিৎসকসহ সমাজের সর্বস্তরের বিভিন্ন পেশার বিপ্লব মানুষগুলোকে তিনি পত্রিকা বিক্রয় উদ্দীপ্ত করলেন। তারা মহা উল্লাসে ঈদের আনন্দ পত্রিকার বিক্রয়ের আনন্দে পরিণত করল।
সবচেয়ে বড় বিপ্লব যেটা তিনি ঘটালেন, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী শুধু নয়, গৃহিণীদেরকেও তিনি পত্রিকা প্রচারে উজ্জীবিত করলেন। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক বাস্তবতায় মহিলারা পত্রিকা বিক্রি করছেন এক বিস্ময়কর সংযোজন। পত্রিকা বিক্রয় করতে গিয়ে নারীরা অনেক ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছেন কিন্তু এক মুহূর্তের জন্য পিছপা হয়নি। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে এক নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছেন তিনি। ‘নারীরাও পারে’ এ কথাটি তিনি নারীদের দিয়ে আবারও প্রতিষ্ঠা করলেন।
এরই মধ্যে ঘটে যায় আর এক ঘটনা। তারই উদ্যোগে, প্রত্যেক্ষ সহায়তায় প্রকাশিত হয় দৈনিক বজ্রশক্তি। পত্রিকাটি বজ্রের শক্তিতে সমগ্র বাংলাদেশের পত্রিকার জগতকে নাড়া দিয়ে দেয়। দৈনিক বজ্রশক্তি পত্রিকার তিনি প্রধান উপদেষ্টা, তার নির্দেশনায় প্রকাশিত হয় পত্রিকাটি। দৈনিক বজ্রশক্তিতে প্রকাশিত তার প্রবন্ধ নিবন্ধ পড়ার জন্য পাঠকেরা মুখিয়ে থাকে। একবার যে পাঠক তার কোন একটি প্রবন্ধ পড়েছে সে এই পত্রিকাটি নিয়মিত পাওয়ার ব্যবস্থা করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। পত্রিকাটিতে তিনি কেবল নিয়মিত প্রবন্ধ লেখেন, বিষয়টি শুধু এমন নয়। তিনি প্রতিদিনের পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠার লিড-সাব লিড কি হবে সেটাও ঠিক করে দেন, পত্রিকার প্রথম ও শেষ পৃষ্ঠার সেটিং এর দিকে থাকে তার তীক্ষè দৃষ্টি। তার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পত্রিকাটি পাঠকের কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছে।
জনাব হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম দৈনিক দেশেরপত্রের মাদার প্রতিষ্ঠান পিনাকল মিডিয়া লিমিটেডের চেয়ারম্যান। তার উদ্যোগে দৈনিক দেশেরপত্রের কর্মরত সকল সাংবাদিক, জেলা-উপজেলা প্রতিনিধিদেরকে ঢাকায় এনে পত্রিকার কনফারেন্স রুমে বিশ জন-বিশ জন করে একে একে সকলকে সাংবাদিকতার উপর প্রবীণ সাংবাদিক ও শিক্ষকদের দ্বারা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ নেওয়ার সাংবাদিকদের কেউ কেউ দেশেরপত্র বা বজ্রশক্তি পত্রিকা ছেড়ে অন্যান্য স্বনামধন্য জাতীয় পত্রিকা সমূহে, স্যাটেলাইট টিভিতে সুনামের সহিত কাজ করছে। অর্থাৎ কার্ড সর্বস্ব সাংবাদিক নয়, সত্যিকারের সাংবাদিক, সাংবাদিক বলতে যা বোঝায় তিনি সেই সাংবাদিক গড়ে তুলেছেন। জাতির মন-মগজ থেকে পাশ্চাত্য প্রভুদের দাসত্বকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করতে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদেরকে ভূমিকা রাখার জন্য আহ্বান জানান। এ লক্ষ্যে তিনি একটি বইও রচনা করেন যা নাম “পাশ্চাত্যের মানসিক দাসত্ব দূরীকরণে গণমাধ্যমের করণীয়”। বইটি তিনি বহু গণমাধ্যমকর্মীকে উপহার হিসাবে প্রদান করেন।
অপরদিকে তিনি দেশের অনলাইন টেলিভিশন জগতেও এনেছেন নতুনত্ব ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার ধারণা। বাংলাদেশের প্রথম দিককার অনলাইন টেলিভিশন জেটিভি তারই উদ্যোগে, প্রেরণায়, সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জেটিভি বাংলাদেশের একমাত্র অনলাইন টেলিভিশন যা সর্বপ্রথম বিশ্বকাপ ফুটবল ও বিশ্বকাপ ক্রিকেট সরাসরি সম্প্রচার করেছে। অনলাইন টিভি হয়েও স্যাটেলাইট টিভির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় সদর্পে টিকে আছে।
তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন অবহেলিত বঞ্চিত সাংবাদিকদের জন্য কিছু করা। মফস্বলে কর্মরত সাংবাদিকদের বেতন নেই, যাও হাতে গোনা দুই একজন ভাতা পান তার পরিমাণ যৎসামান্য। রাজধানী ঢাকাতে কর্মরত সাংবাদিকদের কারোরই চাকরির কোন নিশ্চয়তা নেই। যখন-তখন চাকরি চলে যেতে পারে। বেতন-ভাতা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এর কোন প্রতিকার নেই। অবসর ভাতা পাওয়ার চিন্তা কোন সাংবাদিক স্বপ্নেও ভাবে না। মুষ্টিমেয় কিছু অতি ভাগ্যবান সাংবাদিক (যারা সরকারের বিশেষ আনুকূল্য পেয়ে থাকেন) ছাড়া বাকি সাংবাদিকদের অধিকাংশই পরিবার-পরিজন নিয়ে অর্থকষ্টে ভোগেন। এমনও আছেন যারা চিকিৎসা খরচ মেটাতে হিমশিম খান। বিশেষ করে অবসর বয়সে চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে অধিকাংশের পক্ষেই অন্যের দান-দক্ষিণার উপর নির্ভর করা ছাড়া কোন উপায় থাকে না।
এসব তাকে খুব ব্যথিত করে। এর সম্পূর্ণ অবসান না করতে পারলেও কিছু লাঘব করার উদ্যোগ নেন। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে তার ইচ্ছায়, উদ্যোগে, সহায়তায় গঠন করা হয়েছে বাংলাদেশ সাংবাদিক জোট (Journalist Alliance Foundation of Bangladesh) । এই সংগঠনের প্রথম থেকেই সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছি বিধায় তার সম্পর্কে এ কথাগুলো আমি বলতে পারলাম। তাঁকে খুব কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। দৈনিক বজ্রশক্তি’র সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বপালন করায় আমি সাংবাদিকতায় তার অসাধারণ প্রতিভার ছোঁয়া পেয়েছি, বাংলাদেশ সাংবাদিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজ করতে যেয়ে আমি দেখেছি সাংবাদিকদের প্রতি তার অপরিসীম ভালোবাসার রূপ।
তারই ঐকান্তিক ইচ্ছায় বাংলাদেশ সাংবাদিক জোটের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরমধ্যে রয়েছে- সদস্যদের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা, স্বল্প খরচে কিংবা বিনা খরচে চিকিৎসার ব্যবস্থা, সাংবাদিক সন্তানদের জন্য সকল পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফুল ফ্রি কিংবা অর্ধেক খরচে অধ্যয়ন, সদস্যদের মেধাবী সন্তানদের মাসিক বৃত্তি প্রদান, সদস্য মৃত্যুবরণ করলে তার পরিবারকে কমপক্ষে ১ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা, পেশাগত কারণে অঙ্গহানি হলে তাদেরকে ৩ লক্ষ টাকা অনুদান, পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধাগ্রস্থ কিংবা অন্যায়ের শিকার হলে তাকে সম্মিলিতভাবে সহায়তা, সাংবাদিকদের নবজাতক সন্তানকে এককালীন ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদানসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়। এছাড়াও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদানের জন্য দেশের শ্রেষ্ঠ সংবাদদাতা/প্রতিবেদককে ‘বাসাজ সম্মাননা’ ও পঞ্চাশ হাজার টাকা আর্থিক পুরষ্কার প্রদানের উদ্যোগের মূল কা-ারিও তিনিই।
তিনি বরাবরই সাংবাদিকবান্ধব। তাই যেকোনো বিষয় নিয়ে তিনি নিজ অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গি দেশের প্রথিতযশা সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন। কেবল দেশসেরা সাংবাদিকদের সঙ্গেই নয়, যেকোনো স্তরের সাংবাদিকদের সঙ্গেও যেকোনো বিষয় নিয়ে আলোচনায় বসেন। তাদের পরামর্শ, মতামতকে মূল্য দেন, গুরুত্ব দেন। তার শত ব্যস্ততার মাঝেও তিনি সকল স্তরের সাংবাদিকদের সময় দেন, তাদের নিয়ে বৈঠক করেন, তাদের সমস্যা, অভাব-অভিযোগও মনোযোগ দিয়ে শোনেন। যেখানে যা করা প্রয়োজন সাধ্যের মধ্যে সম্ভব সবকিছু করেন।
গণমাধ্যমের এই নীরব বিপ্লবী অনেকটা নীরবেই বাংলাদেশে সাংবাদিকতা, সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের চিন্তা-চেতনায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন ও উন্নয়ন সাধন করে চলেছেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.