Ultimate magazine theme for WordPress.

কসবায় দুই কিশোর গ্যাংয়ের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি এজহার

কসবা প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া কসবা উপজেলায় আধিপত্য নিয়ে দুই কিশোর গ্যাংয়ের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় দুইপক্ষ থেকেই থানায় মামলার এজহার জমা দিয়েছে। কিন্তু এখনো কোন পক্ষের মামলা এজহারভুক্ত করা হয়নি। এরআগে উপজেলার সৈয়দাবাদে গত সোমবার ৩ এপ্রিল রাতে দুই কিশোর গ্যাংয়ের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এই ঘটনায় দুইজন আহত হয়।

আহতরা হলেন, ওই এলাকার বাদল ভূইয়ার ছেলে হৃদয় ভূইয়া ও রফিকুল ইসলামের ছেলে সবুর খান। রক্তক্ষরণে গুরুতর আহত হৃদয় ভূইয়ার অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর ভূঞা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার সৈয়দাবাদ গ্রামের পশ্চিম পাড়ায় দীর্ঘদিন যাবত একই মহল্লার দুই যুবক আশিকুল ইসলাম ও ইসমাইল খানের নেতৃত্বে মহল্লার কিশোরদের সমন্বয়ে দুটি গ্যাং তৈরি হয়ে আছে। এই দুই গ্যাংয়ের মাঝে আধিপত্য টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে ছোট খাট মারামারিও সংগঠিত হয়েছে। দুই গ্যাং মহল্লার কিশোরদের ফুসলিয়ে দলে আনায় ব্যস্ত থাকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একে অপরের প্রতি উস্কানীমূলক স্ট্যাটাস দিচ্ছে। গত ছয় মাসের মধ্যে দুই গ্যাং এর মাঝে একাধিকবার রক্তক্ষয়ী মারামারি হয়েছে। ওইসকল ঘটনায় থানায় মামলাও হয়েছে। গ্রামের সাহেব সর্দারগণ সমাধান করে দিলেও থেমে নেই তাদের সংঘাত।

পুর্ব ঘটনাগুলোর জের ধরেই গত রবিবার ২এপ্রিল রাতে ইসমাইল খানের চাচাতো ভাই আলামিনকে মারধোর করে অপর পক্ষের কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত সোমবার ৩এপ্রিল রাতে আবারো ইসমাইল গ্যাংয়ের ছেলেদের উপর দা, চাপাতি দিয়ে হামলা করে। তাদের চাপাতির কোপে হৃদয় ভূইয়া নামক এক কিশোরের একটি হাত প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক কুমিল্লা সরকারী হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত ঢাকায় স্থানান্তর করেন। রক্তক্ষরণের কারণে তার অবস্থা আশংকাজনক। এ ঘটনায় গ্রামের মানুষের মাঝে আতংক বিরাজ করছে। গ্রামের সচেতন লোকজন বলছে অল্প বয়সী ছেলেদের নেশাগ্রস্ত বানিয়ে হাতে মরনাস্ত্র তুলে দিয়ে তাদের হিংস্রতা শেখাচ্ছে একটি চক্র। নেপথ্যে থেকে এদেরকে যারা অল্প বয়সে নৃশংসতা শেখাচ্ছে তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা দাবী জানান গ্রামের সচেতন লোকজন।

কসবা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর ভূঞা বলেন, গত সোমবার রাতে উপজেলার সৈয়দাবাদ গ্রামে দুটি কিশোর গ্রুপের মাঝে মারামারি হওয়ার খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এই মারামারি ঘটনা দুই গ্রুপের পরিবারের পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি মামলার এজহার জমা দিয়েছে। কারো এজহারই মামলায় নথিভুক্ত করা হয়নি। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে আইনানুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.