Ultimate magazine theme for WordPress.

কসবার হাতুরাবাড়ি গ্রামে খাল ভরাট করে বাড়িঘর-মার্কেট নির্মাণের মহোৎসব!

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার হাতুরাবাড়ি গ্রামে সরকারী খাল ভরাট করে মার্কেট ও বাড়িঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। গ্রামের অভ্যন্তরে খালের উপর নির্মিত ব্রিজের দুপাশ ভরাট করে খালের অস্তিত্ব বিলীন করে দেয়ায় একটু বৃষ্টি হলেই হাতুরাবাড়ি-মান্দারপুর সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে জনদুর্ভোগ লেগেই আছে ওই এলাকাটিতে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কসবা উপজেলার বাদৈর ইউনিয়নের হাতুরাবাড়ি-মান্দারপুর সড়কটি ওই ইউনিয়নের একটি গুরুত্বপুর্ন সড়ক। গ্রামের ভেতরে অসংখ্য সরকারী খালগুলোর মধ্যে অদের খাল থেকে প্রবাহিত হাতুড়াবাড়ি হয়ে মান্দারপুর বড় খালে মিলিত হয়েছিলো এই খালটি। কিন্তু গত দুবছরে গ্রামের প্রভাবশালী বশির উদ্দিন গংরা সড়কের দুপাশের খালটি ভরাট করে মার্কেট ও বাড়িঘর নির্মাণ করেছে। সড়কের পূর্ব পাশে খালটি সর্বোচ্চ ৫০ফুট প্রশস্ত। ওই সমস্ত জায়গা ভরাট করে দোকানপাট, মার্কেট ও বাড়িঘর নির্মাণ করায় গ্রামের পরিবেশ মারাত্মক বিনষ্ট করেছে।

বাদৈর ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ইব্রাহীম আহাম্মদ জানান, হাতুরাবাড়ি মৌজার ২৯৯ নং খাস খতিয়ানের অন্তর্ভূক্ত এই খালটির বিএস রেকর্ডে ও ম্যাপে পূর্বপাশে ২৫ ফুট প্রসস্ত থেকে ৫০ ফুট পর্যন্ত প্রসস্ত রয়েছে। অন্যদিকে পশ্চিম পাশেও ২৫ থেকে ৩০ ফুট খাস সম্পত্তি রয়েছে। কতিপয় লোকজন খালের অস্তিত্ব নষ্ট করে জনজীবনে দূর্ভোগ নামিয়ে এনেছেন। তিনি জানান- এই খাল উদ্ধার করার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে।

বাদৈর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ৫নং ওয়ার্ড সাধারন সম্পাদক হাবিবুর রহমান জানান, হাতুরাবাড়ি গ্রামের ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মান্দারপুর গ্রাম পর্যন্ত সড়কের দুপাশেই খাস সম্পত্তি রয়েছে। কিন্তু ভূমিদস্যুরা একশ্রেণির অসাধূ লোকের ছত্রছায়ায় থেকে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সরকারী সম্পত্তি দখলে নিয়েছেন। তিনি দ্রুত এসমস্ত সরকারী সম্পত্তি উদ্ধার করে পরিবেশ সুরক্ষার দাবী করেন।

মান্দারপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য সুবেদার শফিকুল ইসলাম বলেন, গ্রামীন এই খালগুলো ভরাট করে জনজীবনে বিপর্যয় তৈরি করা হয়েছে।এক সময় এ সমস্ত খাল থেকে দেশীয় নানা জাতের মাছ ধরা হতো। তিনি অবিলম্বে খাল উদ্ধারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

গ্রামের প্রবীন মুরব্বী বোরহান উদ্দিন জানান- এক সময় এই খালে বড় বড় নৌকা চলতো। পানিপ্রবাহে কোনো বাধা ছিলো না। খাল বন্ধ করে ফেলার কারনে বর্ষাকালে পানি আটকে থাকে।

হাতুরাবাড়ী গ্রামের আবদুল আলীমের স্ত্রী জামেনা খাতুন (৬৫) বলেন; এই গ্রামেই আমার বাপের বাড়ি ও শ্বশুরবাড়ী। একসময় সড়ক ছিলোনা গোপাট ছিলো। গোপাটের দুপাশে খাল ছিলো। এখন গোপাট সড়ক হয়েছে। খালগুলো ভরাট বাড়িঘর ও দোকানপাট হয়ে গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়েছে।

এ বিষয়ে মার্কেটের মালিক বশির আহাম্মদ বলেন- গ্রামের বাদশা মিয়া, আলাউদ্দিন, বাছির মিয়া সহ অনেকেই খাল ভরাট করে বাড়িঘর করেছে। তাই আমরাও ভরাট করে মার্কেট করেছি।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাছিবা খান বলেন- খাল ভরাট করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনা মতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ উল আলম বলেন- সরকারী খাল ভরাট করে মার্কেট ও স্থাপনা নির্মানের বিষয়ে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। কোনো অবস্থাতেই খাল ভরাট করে বা দখল করে পানি প্রবাহের বাধা সৃষ্টি করা যাবেনা। সহকারী কমিশনার ভূমিকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সার্ভেয়ারের মাধ্যমে পরিমাপ করে দ্রুত খাল উদ্ধারের ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য।

Leave A Reply

Your email address will not be published.