Date: May 01, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / সারাদেশ / চট্টগ্রাম / কালবৈশাখীর আঘাতে ৮৩২ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট! - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

কালবৈশাখীর আঘাতে ৮৩২ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট!

May 01, 2026 11:53:55 AM   অনলাইন ডেস্ক
কালবৈশাখীর আঘাতে ৮৩২ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট!

কালবৈশাখী ঝড়, টানা বৃষ্টি এবং জলাবদ্ধতার সম্মিলিত আঘাতে খাগড়াছড়ির কৃষিতে নেমে এসেছে বড় ধরনের বিপর্যয়। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে জেলার অন্তত ৮৩২ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে আমসহ বিভিন্ন ফলচাষিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন, যা স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।

গত কয়েকদিনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কৃষি কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। ঝড়ো হাওয়ার তাণ্ডবে আম, কলা, লিচুসহ নানা ফলের বাগান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমবাগানগুলোতে সবচেয়ে বড় আঘাত আসে—গাছ থেকে ঝড়ে পড়ে বিপুল পরিমাণ কাঁচা ও আধাপাকা আম, যা বাগানিদের জন্য বড় আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক কৃষক জানান, পুরো মৌসুমের লাভের আশা এখন অনিশ্চয়তায় পরিণত হয়েছে।

এদিকে বোরো ধানও রক্ষা পায়নি এই দুর্যোগ থেকে। আধাপাকা ও পাকা ধানের ক্ষেত অনেক জায়গায় মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ঠাকুরছড়ায় দেখা গেছে, ঝড়ে লুটিয়ে পড়া ধান পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। দীঘিনালার মেরুং ও কবাখালী এলাকায় টানা বৃষ্টির কারণে নিচু জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে পাকা ধান সম্পূর্ণ ডুবে যায়। শুধু মাঠেই নয়, অনেক কৃষকের কেটে রাখা ধানও বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হয়েছে। একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে মহালছড়ি ও পানছড়ি উপজেলাতেও।

সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন প্রান্তিক কৃষকরা, যাদের জমি নিচু হওয়ায় সহজেই পানিতে তলিয়ে যায়। ধান ও মৌসুমি সবজি নষ্ট হয়ে তাদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত সরকারি সহায়তা না পেলে এই ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা তাদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। তাই তারা জরুরি ভিত্তিতে পুনর্বাসন এবং প্রণোদনা সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, জেলায় ২২১ হেক্টর আধাপাকা ও পাকা ধান, ৬৩ হেক্টর সবজি এবং ৫৪৮ হেক্টর ফলবাগানসহ মোট ৮৩২ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা আশ্বাস দিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও প্রণোদনা দ্রুত কৃষকদের মাঝে পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারেন।

কালবৈশাখীর এই আকস্মিক আঘাত খাগড়াছড়ির কৃষি খাতে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এখন কৃষকদের একমাত্র ভরসা—দ্রুত সহায়তা এবং অনুকূল আবহাওয়া, যা তাদের আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখাতে পারে।