


কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী (৩৫) হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে র্যাব-১১। এই ঘটনায় জড়িত ছিনতাইকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।
গত ২৫ এপ্রিল শনিবার সকালে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় আইরিশ হোটেলের পাশ থেকে বুলেট বৈরাগীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি চট্টগ্রাম থেকে প্রশিক্ষণ শেষ করে কুমিল্লায় নিজের বাসায় ফিরছিলেন। রাতে পরিবারের সাথে তার শেষ কথা হলেও এরপর থেকে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। সকালে মহাসড়কের পাশে তার মুখমণ্ডল ও শরীরে আঘাতের চিহ্নসহ লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এই ঘটনায় তার মা বাদী হয়ে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
র্যাব জানায়, তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২৬ এপ্রিল কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. সোহাগ (৩৪), ইসমাইল হোসেন জনি (২৮), এমরান হোসেন ওরফে হৃদয় (৩৪), রাহাত হোসেন জুয়েল (২৭) এবং মো. সুজন (৩২)। তারা সবাই কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানা এলাকার বাসিন্দা।
গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে বুলেট বৈরাগীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, পাওয়ার ব্যাংক ও ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশা, চাপাতি, সুইচ গিয়ার, স্ক্রু ড্রাইভার ও হাতুড়ি জব্দ করা হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানায়, তারা একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সদস্য। তারা রাতের বেলা বাস থেকে নামা যাত্রীদের টার্গেট করে সিএনজিতে তুলত এবং অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ছিনতাই করত। ঘটনার দিন রাত ৩টার দিকে বুলেট বৈরাগী জাগুরঝুলি বিশ্বরোডে বাস থেকে নামলে সিএনজি চালক জুয়েল তাকে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে গাড়িতে তোলে। গাড়িতে আগে থেকেই যাত্রী সেজে অন্য সহযোগীরা বসা ছিল।
গাড়িটি চলতে শুরু করলে তারা চাপাতি ও সুইচ গিয়ার দেখিয়ে তাকে জিম্মি করার চেষ্টা করে। বুলেট বৈরাগী বাধা দিলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে ছিনতাইকারীরা তাকে মারধর করে তার মোবাইল ও টাকা কেড়ে নেয়। এরপর কোটবাড়ি এলাকায় চলন্ত সিএনজি থেকে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পাওয়ার কারণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতরা পেশাদার অপরাধী এবং তাদের নামে আগে থেকেই বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের সদর দক্ষিণ থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।