Ultimate magazine theme for WordPress.

কঠোর লকডাউন…অতঃপর?

ঈদের পরপরই শুরু হচ্ছে কঠোর লকডাউন। তবুও প্রশ্ন থেকেই যায় অতঃপর কী হবে? কঠোর লকডাউন অর্থনীতিতে যে ভয়াবহ আঘাত হানবে সে বিষয়ে সুষ্পষ্ট ধারণা এখনই করা যায়। বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান তিন খাত যদি বন্ধ হয়ে পড়ে তবে অথর্নীতির চাকাকে সচল রাখা কষ্টকর হয়ে পড়বে। তবে ব্যবসায়ীরা দেশের প্রধান রপ্তানি খাত, তৈরি পোশাকশিল্প কারখানা ও খাদ্যপণ্য উৎপাদন সচল রাখার পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেছে। তাদের আশংকা অমূলক নয় কারণ যদি মহামারীকালে খাদ্য সংকট দেখা দেয় তখন ১৬ কোটির এ ছোট্ট দেশের বিশাল জনসমষ্টি কী করবে তা অনুমান করলেও গা শিউরে উঠে। এছাড়াও উৎপাদন কমে যাওয়ায় দাম বাড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগপণ্যের। বেকারত্ব ও দারিদ্র এ অভিশাপেও অভিশপ্ত হবে গোটা দেশ। এমতাবস্থায় সরকার কী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে সেটিই বিবেচ্য বিষয়।পাঁচটি মৌলিক চাহিদার প্রথম ও সবথেকে জরুরী উপাদান হচ্ছে খাদ্য। সেই খাদ্যের অভাব কতটা ভয়ংকর তা ইতিহাস ঘাটলেই পর্যবেক্ষণ সম্ভব। করোনাকালীন সময়ের ইতোপূর্বে যে লকডাউনগুলো দেয়া হয়েছিল সেগুলোকে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাচ্ছে সাধারণ মানুষের আয়-রোজগার কমে গিয়েছে এবং ক্রমান্বয়ে কমছে। উৎপাদনকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে কিন্তু যারা বিভিন্ন পেশায় চাকুরিতে নিয়োজিত ছিল তাদের অনেকেই বেকারত্বের ভার বহন করছে, বন্ধ হয়ে গিয়েছে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। তাই কঠোর লকডাউন দেয়ার আগে একটু গুছিয়ে না নিলে খাদ্যসংকট দেখা দেওয়া অস্বাভাবিক কোনো বিষয়ই নয়।সরকারকে তাই এখনই একটি সিদ্ধান্তে আসতে হবে। ঈদ পরবর্তী কঠোর লকডাউনে কোন খাতগুলো সচল রাখবে আর কোনগুলিকে বন্ধ রাখবে সে বিষয়ে ‘বিশেষভাবে’ এখনই পরমর্শ করে সিদ্ধান্তে আসতে হবে। সর্বপ্রথম খাদ্যসংকটের কথা চিন্তা করে কৃষির উপর জোর দিতে হবে। “প্রতি ইঞ্চি মাটিকে উৎপাদনের আওতায় আনতে হবে”- বলে যে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল সেটিকে তরান্বিত করতে নতুন ব্যবস্থা গ্রহণের সময় এসেছে। কৃষি জমি ও জলমহলগুলোতে যারা কাজ করছে তাদের সুযোগ সুবিধা বাড়িয়ে দেয়া, কৃষি ও মৎস উৎপাদনে বিশেষ সহায়তা প্রদান ও হস্ত ও কুটিরশিল্পের প্রতি জোর প্রদান করা এখন অত্যাবশ্যক। এছাড়াও যারাই এ ধরনের কাজে এগিয়ে আছে, নিজ উদ্যোগে অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখায় নিজেদের যতটুকু রয়েছে ততটুকু দিয়েই সর্বাত্মক পরিশ্রম করে যাচ্ছে তাদের সাথে নেয়া যেতে পারে। একদল নিবেদিত প্রাণ ছাড়া এ সংকট থেকে পরিত্রাণ সরকারের পক্ষে কষ্টকর হয়ে উঠবে। তাই সরকারের সিদ্ধান্তে তাদেরকে সুযোগ সুবিধা প্রদানের বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় আনতে হবে। অতএব কঠোর লকডাউন দেয়ার আগে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন। সামাজিক দুরত্ব যেসকল স্থানে বজায় না রাখলেই নয় সেগুলোকে বন্ধ করে দিয়ে উৎপাদনমুখী ক্ষেত্রগুলোতে মনিটরিং এর মাধ্যমে সামাজিক দুরুত্ব নিশ্চিত করে সেগুলোকে সচল রাখার ব্যাপারে সচেষ্ট হন। দারিদ্র এক মূর্তিমান গজব, সে দরিদ্রতা থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য প্রতিটি সংস্থাকে সরকারের সাথে একাত্মতা পোষণ করে কাজে নামতে হবে। এছাড়াও টিকা প্রদান ও পরবর্তীধাপ টিকা আনার ব্যপারে সফলতার যে মুখ দেখা যাচ্ছে তাকে বজায় রাখতে হবে। ভুললে চলবে না, মহামারীর সময়ে এক মূহুর্তের অসতর্কতাও আমাদের দেশ ও জাতিকে বিরাট সংকটে পতিত করতে পারে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.