Ultimate magazine theme for WordPress.

আজ পবিত্র ঈদুল আজহা, ত্যাগের শিক্ষায় দিক্ষিত হোক পুরো জাতি

আজ পবিত্র ঈদুল আজহা। দ্বিতীয়বারের মত করোকালীন দুর্যোগের মধ্যে দিয়ে সামাজিক দুরুত্ব ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিধি-নিষেধ মেনে দেশব্যাপী পালিত হচ্ছে পবিত্র কোরবানির ঈদ। কোরবানি শব্দটি এসেছে আরবি ‘কুরবুন’ শব্দ থেকে, যার অর্থ নিকটবর্তী হওয়া, কাছে যাওয়া, সান্নিধ্য অর্জন করা, নৈকট্য লাভ করা, উৎসর্গ করা, বিশেষ ঘনিষ্ঠ হওয়া, খুব প্রিয় হওয়া, ভালবাসার পাত্র হওয়া ইত্যাদি। অর্থাৎ আল্লাহর রাস্তায় কোনো ত্যাগ স্বীকারের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই হচ্ছে কোরবানি। সুতরাং কেবল পশু জবাই করাই কোরবানি নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে যেকোনো ত্যাগই কোরবানির অন্তর্ভুক্ত।
পশু কোরবান একটি প্রতীকি বিষয় যার মাধ্যমে আসল কোরবানি দেওয়ার শিক্ষা প্রদানই এই আনুষ্ঠানিকতার মূল উদ্দেশ্য। মূলত, ইব্রাহিম (আ.) এর কাছে আল্লাহ প্রিয় বস্তুর কোরবানি চেয়েছিলেন আর তিনি নিজ পুত্রকে আল্লাহর রাহে উৎসর্গ করার যে অনন্য নজীর স্থাপন করতে উদ্যত হয়েছিলেন, তাতে সন্তুষ্ট হয়ে পশু কোরবানের মাধ্যমে আল্লাহ সেটাকে পূর্ণতা দেন। সেখান থেকেই পবিত্র গৃহ ক¦াবার নিকটে মহাসমাবেশ বা হজ করতে যাওয়া বিশ্বাসী বান্দাদের জন্য পশু কোরবানের রীতি চালু হয়। আর হাজীদের সাথে সংহতি প্রকাশার্থে বিশ্বের সব অঞ্চলের মো’মেন বান্দাগণ পশু কোরবান করে থাকেন।
কিন্তু কোরবানির যে মূল লক্ষ্য যে মূল শিক্ষা তার বাস্তবায়ন কতটুকু হচ্ছে? কোরবানির মাধ্যমে যেখানে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন মূখ্য উদ্দেশ্য ছিল সেখানে আজ কোরবানি শুধুই এক উৎসবে পরিণত হয়েছে। কোরবানির সে আত্মিক দিক, সে শিক্ষা আজ কোথাও নেই। প্রত্যেকে অনেক টাকা উৎসর্গ করে বড় বড় পশু কোরবানি দিচ্ছে ঠিকই কিন্তু প্রকৃত ত্যাগ করার মানসিকতা তৈরি হয়নি এখনও। যদি সত্যিকার অর্থেই কোরবানির শিক্ষা প্রতিটি পশু কোরবানীদাতার অন্তরে জন্ম নিত তবে আমাদের দেশ ও সমাজের এক ভিন্ন চিত্র আমরা দেখতে পেতাম।
বর্তমান পৃথিবীর অবস্থা হচ্ছে, আজ পৃথিবীর কোথাও শান্তি নেই। করোনাকালীন সময়ে শুধু আমাদের দেশের দিকে তাকালে দেখা যায় আমাদের চরম দুর্দশার চিত্র। আজ দুর্বলের ওপর সবলের অত্যাচারে, দরিদ্রের ওপর ধনীর বঞ্চনায়, শোষণে, শাসিতের ওপর শাসকের অবিচারে, ন্যায়ের ওপর অন্যায়ের বিজয়ে, সরলের ওপর ধুর্তের বঞ্চনায়, পৃথিবী মানুষের বাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সমাজে চলছে অন্যায়, প্রতিটি ব্যবস্থায় ঢুকেছে দুর্নীতি, সুদ-ঘুষ এগুলো তো নিত্যদিনের ব্যাপার। বনের পশুকে কোরবানি সবাই করছে কিন্তু মনের পশুকে কোরবানি দিতে পারছে কয়জন?
অতএব, সময় এসেছে কোরবানির প্রকৃত শিক্ষায় দিক্ষিত হওয়ার। আজ সময় এসেছে প্রকৃত অর্থেই ত্যাগ করার। হযরত ইবরাহিম (আ.) যেমন নিজের সবথেকে প্রিয় বস্তুটিকে, তাঁর সন্তান, কোরবানি দেয়ার জন্য প্রস্তুত হয়েছিলেন ঠিক তেমনি আমাদেরকেও তৈরি থাকতে হবে। দেশ ও জাতির জন্য তথা মানবতার কল্যাণে নিজেদের মেধা, শ্রম, প্রজ্ঞাকে সর্বাত্মকভাবে বিলিয়ে দেয়ার নিঃস্বার্থ চরিত্র তৈরি করতে হবে। সেটিই হবে আমাদের জন্য প্রকৃত ত্যাগ, প্রকৃত কোরবানি। তাই আমরা আশা করছি যারা সত্যনিষ্ঠ, সত্য ও ন্যায়কে ধারণ করেছে ও করছে তারা আমাদের এ কথার সাথে একমত হবে এবং প্রকৃত অর্থেই কোরবানি করার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করবে।
পরিশেষ আজকের এ পবিত্র দিনে দৈনিক দেশেরপত্র পরিবারের পক্ষ থেকে দৈনিক দেশেরপত্রের পাঠক, শুভাকাঙ্খী, বিজ্ঞাপনদাতা, বিপননকারী- সকলকে আমাদের তরফ থেকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক।

Leave A Reply

Your email address will not be published.